কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা-য় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও তিনটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বেরীবাঁধের বাইরে সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সীকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পাশের এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। এতে দুটি খাবারের হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি মনোহরী দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান ও একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর কলাপাড়া স্টেশনের একটি ইউনিট সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি মনোহরী দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।
আগুনের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সেখানে লেপ-তোশক ও বালিশ রাখা ছিল এবং কয়েল জ্বালানো ছিল বলে জানা গেছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো খাবারের হোটেল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকানই তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে লোকজন অবস্থান করলেও তারা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং আশপাশের দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুয়াকাটা পর্যটন শহর হলেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়, যার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। দ্রুত কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রমজান মাসে এমন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের অনেকেরই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এসব দোকান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, রমজানের মধ্যে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে