সর্বশেষ

জাতীয়আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস: পিলখানার হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা ঢাবি শিক্ষকের
সারাদেশআশুলিয়া পোশাক শ্রমিককে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, দেড় বছর পর স্বামী গ্রেফতার
আন্তর্জাতিকস্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ: আমেরিকার ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হয়েছে: ট্রাম্প
খেলাদক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হারে সুপার এইট পর্ব শুরু ভারতের, শঙ্কায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা
জাতীয়

জুলাই সহিংসতায় পুলিশ হত্যা ও স্থাপনায় হামলা: তদন্তে নতুন করে তৎপরতা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুনরায় তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেড় বছর ধরে তদন্ত কার্যত স্থবির থাকায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ওই সময়ের সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। তবে বাহিনীর ভেতরের একটি অংশের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। নতুন সরকারের নির্দেশনার পর প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে ও পরের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্রসহ বিভিন্ন আলামত সংরক্ষণ করা আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনুষ্ঠানিক ‘সবুজ সংকেত’ না থাকায় তদন্ত এগোয়নি। এখন নতুন নির্দেশনার আলোকে সেসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে মামলা দায়ের ও জড়িতদের শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, তদন্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।

আন্দোলনের সময় কয়েকটি কারাগারেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দেয়াল ও ফটক ভেঙে বন্দি ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে; অনেকেই এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে এবং প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, আন্দোলনের আগে ও পরে থানা, ফাঁড়ি ও ট্রাফিক কার্যালয়সহ ২১৬টি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর হয়। এর মধ্যে ১৩টি থানা পুরোপুরি পুড়ে যায়। ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫০টি থানার মধ্যে ২১টিতে হামলার ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। হামলার সময় অস্ত্র লুট ও যানবাহন ধ্বংসের ঘটনাও ঘটে। লুট হওয়া অধিকাংশ অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এত বড় ঘটনার পরও এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি মামলা হয়েছে, যার বেশিরভাগ আসামি অজ্ঞাতনামা—এ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সাবেক ওসি দাবি করেছেন, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কিছু স্থানে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। হামলাকারীরা থানায় আগুন ধরিয়ে দিলে অনেক সদস্য পোশাক খুলে নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য হন। তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত এবং নিরীহ নিহতদের ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে, আন্দোলন দমনে গুলি ও হামলার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬১২টি হত্যা মামলা। আলোচিত ৬৮টি মামলা তদন্ত করছে পিবিআই; পাশাপাশি সিআইডিসহ অন্যান্য ইউনিটও তদন্তে রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একাধিক এজাহারের সঙ্গে ঘটনার বাস্তবতার অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত সদস্যরা ঘটনার সময় দায়িত্বস্থলে ছিলেন কি না তা নিশ্চিত করতে কললিস্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, টেলিভিশন সম্প্রচার ও পত্রিকার ছবি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের কাছ থেকেও ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর তদন্তে গতি এলে সহিংসতার নেপথ্যের ঘটনা স্পষ্ট হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন