ভাঙ্গায় মেয়েকে ধর্ষণ: পিতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে মোস্তফা মোল্লা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
মঙ্গলবার (দুপুর ২টা) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে তিনি নাসিরাবাদ ইউনিয়নের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী নাজমা বেগমকে বিয়ে করেন। এর আগে তার আরেকটি বিয়ে ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন মোস্তফা। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার তিনি তার ২২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার মাকে জানালেও তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরে আত্মীয়-স্বজনদের জানানো হলে মোস্তফা এলাকা ছেড়ে পাশের সদরপুর উপজেলায় প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান। এক মাস পর তিনি আবার ফিরে এসে মেয়েকে কয়েক মাস ধরে নির্যাতন করতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষ গত ২৯ মার্চ আবারও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মামা ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ফরিদপুর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
১৪৬ বার পড়া হয়েছে