খুলনায় সুন্দরবন দিবস: ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণার দাবি
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনায় সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহম্মেদ ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে রূপান্তর, সুন্দরবন একাডেমি ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ ও অঞ্চলের সুন্দরবনপ্রেমী মানুষদের যৌথ উদ্যোগে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস ঘোষণা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবন সন্নিহিত অঞ্চলে বনের বৃক্ষ, জলজ ও প্রাণী সম্পদের সুরক্ষায় সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক বন্ধের বিকল্প নেই। এজন্য জনগণকে সচেতন করতে এবং রাষ্ট্রীয় কঠোরতা প্রয়োগে সচেতন সব মহলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এই আলোচনা সভা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, সুন্দরবন একাডেমির উপদেষ্টা ও রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ।
সভায় “সুন্দরবনের গুরুত্ব, বর্তমান হুমকি এবং সুন্দরবন দিবসের তাৎপর্য” বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. ওয়াসিউল ইসলাম। প্রবন্ধে সুন্দরবনের ওপর হুমকি ও সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপান্তর-এর ইকো সুন্দরবন প্রকল্পের সমন্বয়ক সুভাশীষ ভট্টাচার্য।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সুন্দরবন সুরক্ষার আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, খুলনা মহানগর নাগরিক ফোরামের মহাসচিব ইকবাল হাসান তুহিন, সাতক্ষীরার স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নূর আলম শেখ, সাংবাদিক গাজী মনিরুজ্জামান, কৌশিক দে বাপী, প্রবীর বিশ্বাস, ফটো সাংবাদিক কামরুল আহসান, ট্যুর অপারেটরের পক্ষে যুবায়ের হীরা, শিক্ষক তোহফা, সামাজিক নেতা আব্দুস সালাম শিমুল, মাসুম বিল্লাহ, উন্নয়ন কর্মী সজল, সেলিম, মোঃ আঃ হালিম এবং গৃহিনী নার্গিস আক্তার জাহান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য নীরব ঘাতক। এটি শুধুমাত্র জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলছে না, বরং খাদ্য শৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা কমাচ্ছে, যা কৃষি ও বনজ উৎপাদনকে বিঘ্নিত করছে। সুন্দরবনের নদী, খাল ও পলির নমুনায় বিভিন্ন আকারের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার দ্বারা ১০০% দূষিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলে মাথাপিছু বার্ষিক গড় প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫.৬৩ কেজি।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের উদ্ভিদ, প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই অঞ্চলের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ, কার্যকর সমন্বয় এবং যুবকদের কার্যকর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় পুরষ্কৃত হন হাবিবুর রহমান, অজয় দাস, কামরুল আহসান, মিল্টন মন্ডল ও রাফিজ সিদ্দিকী। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় পুরষ্কৃত হন নেভি এ্যাকরেজ স্কুলের নায়লা তাসমিন জাহান, তাসনিম মোশাররফ এবং খুলনা জেলা স্কুলের শৌভিক দে। শুভেচ্ছা পুরষ্কার লাভ করেন সুনয়না হালদার।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে