কয়লা আমদানিতেই সীমাবদ্ধ গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর, বেকার হাজারো মানুষ
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা পেলেও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর কার্যত সীমাবদ্ধ রয়েছে শুধু কয়লা আমদানিতে। বছরে গড়ে ছয় মাস কয়লা আমদানি হলেও বাকি সময় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ও পাঁচ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত জটিলতা, ব্যবসায়ী সংগঠনের দ্বন্দ্ব এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে বন্দরটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সম্ভাবনাময় এই স্থলবন্দরটি বছরের বড় একটি সময় অলস পড়ে থাকে।
ঐতিহাসিকভাবে কড়ইতলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ১৯৭৯ সালে এবং গোবরাকুড়া দিয়ে ১৯৯৭ সালে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোবরাকুড়া-কড়ইতলীকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে কার্যক্রমে আনা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বন্দর দিয়ে এখনো দেশের কোনো পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না; আমদানি সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল কয়লায়।
বন্দরের শ্রমিক রাসেল মিয়া বলেন, কয়লাবাহী ট্রাক এলে কাজ থাকে, না হলে বসে থাকতে হয়। টানা আমদানি বন্ধ থাকলে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। নিয়মিত আমদানি হলে স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত হতো।
ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু কয়লা নয়—ভারত থেকে মাছ, শুটকি, কমলা, চালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভুটানের সঙ্গেও এ রুটে বাণিজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক জটিলতা নিরসন করা গেলে বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের পরিদর্শক শাহীন মাহামুদ জানান, ভারতের অংশে স্থায়ী কাস্টমস অফিস স্থাপনের কাজ চলছে। এটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত থেকে ৬৯ হাজার ৬০০ টন কয়লা আমদানি করা হয়। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাত্র ৯৬৪ টনে। চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৩৬ হাজার টন কয়লা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু এবং পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাবনাময় এ স্থলবন্দরটি কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে, সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে