চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে নারী নিহত, পরিবারের আটজন দগ্ধ
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় সোমবার ভোরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) মারা গেছেন। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রানীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের পরিবারের আরও আটজন বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-নুরজাহান আক্তার রানীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), বড় ছেলে শাওন (১৭), ছোট মেয়ে আইমান (৯), সাখাওয়াতের দুই ভাই শিপন (৩০) ও সামির হোসেন সুমন (৪০), সামিরের ছেলে আনাস (৭) ও মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪), এবং সামিরের স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় পরিবারটি সেহরি করছিল। আতঙ্কিত হয়ে দগ্ধরা একে একে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “দগ্ধদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনের ১০০ শতাংশ, শাওনের ৫০ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ, শিপনের ৮০ শতাংশ, সামিরের ৪৫ শতাংশ, আনাসের ৩০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ ও পাখি আক্তারের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।”
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, বাসায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লাইনের গ্যাস ব্যবহার করা হতো। প্রাথমিক অনুমান, রান্নাঘরের চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
১০৩ বার পড়া হয়েছে