সাতক্ষীরায় ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ হওয়া দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরা আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মল্লিক মনিরুজ্জামান।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিক শেখ মাসুদ হাসান মনি ও মোহাম্মদ রবিউল ইসলামকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পাটকেলঘাটা টাওয়ার রোড এলাকায় তপসিলভুক্ত সরকারি জমিতে বিধি লঙ্ঘন করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক শেখ মাসুদ হাসান মনি ও মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। নতুন নির্মিত দোকানে গিয়ে তারা কাগজপত্র দেখতে চাইলে নিরঞ্জন দাস তাদের নিজস্ব ‘রাখি বস্ত্রালয়’-এ ডেকে নেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন সার ও বীজ ডিলার জামালউদ্দীন, যিনি থানার শাকদহা গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক মাস আগে নিজ এলাকায় বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সার সদর উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় পাচারের অভিযোগে সাংবাদিক মাসুদ হাসান মনি একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরে জামালউদ্দীন ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জামালউদ্দীনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যক্তিকে জড়ো করে দুই সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে জামালউদ্দীন পুলিশকে খবর দিলে পাটকেলঘাটা থানার ওসি লুৎফুল কবির ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নিরঞ্জন দাস প্রথমে মামলা দিতে অনাগ্রহী ছিলেন। কিন্তু রাতেই পাটকেলঘাটা থানার ওসি লুৎফুল কবির তাকে চাপ প্রয়োগ করে মামলা দিতে বলেন। পরদিন সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাটকেলঘাটা থানার ওসি লুৎফুল কবির বলেন, বাদীকে চাপ দিয়ে মামলা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। মব হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। রিমান্ড আবেদন প্রসঙ্গে তিনি এটিকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সার ও বীজ ব্যবসায়ী জামালউদ্দীন বলেন, “আমাকে নিরঞ্জন দাস তার দোকানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর সার পাচারের বিষয়টি সঠিক নয়।”
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “মব সন্ত্রাস বন্ধ করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজ। অথচ পাটকেলঘাটায় মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দুই সাংবাদিককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১০৩ বার পড়া হয়েছে