সর্বশেষ

জাতীয়একযোগে ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাগিব রউফ চৌধুরীর নাম চূড়ান্ত
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ
ঢাকা উত্তর–দক্ষিণসহ ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন কথাসাহিত্যিক মেহেরপুরের নাসিমা আনিস
সারাদেশচট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে নারী নিহত, পরিবারের আটজন দগ্ধ
নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের ফল প্রকাশ
সাতক্ষীরায় ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন
কলারোয়ায় খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে বিরোধে একজন নিহত
নবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন, বে-সরকারি ফল ঘোষণা
কুষ্টিয়ায় রমজানকে ঘিরে ক্যারম ও টিভি বন্ধের নির্দেশ এমপির
সাবেক এমপি নজরুল ইসলামকে কেসিসি'র পূর্ণকালীন প্রশাসক পদে নিয়োগ
মানিকগঞ্জে বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা জানালেন মন্ত্রী আফরোজা
নারায়ণগঞ্জ সিটিতে নতুন প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান
চুয়াডাঙ্গায় এমপি মাসুদের নিজ হাতে রাস্তা পরিস্কার ও ডাস্টবিন স্থাপন
মুন্সীগঞ্জে অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
গোপালগঞ্জে কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধন
শিবচরে নবনির্বাচিত এমপির সাথে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য সংঘর্ষে ১ নিহত, আহত ১৪
কুষ্টিয়ার পদ্মার চরাঞ্চলের সন্ত্রাসী নেতা ‘শরিফ কাইগী’ গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর
দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও এক গ্রেপ্তার, মোট আটক ২৩
রমজানে নির্দেশনা উপেক্ষা, রাজশাহীর দুই স্কুলে চলছে ক্লাস
গফরগাঁওয়ে টিনশেড মসজিদে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি প্রায় ৪ লাখ টাকা
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় ৩ কেজি ৯০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, আটক ১
পটুয়াখালী কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হলো ফিশনেট প্রকল্পের বার্ষিক সাধারণ সভা
নড়াইল-এ আধিপত্যের দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ নিহত ৪
দিনাজপুরে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল এক ব্যবসায়ীর
দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় চকলেট বাজি উদ্ধার, আটক ২
গ্রীন-ক্লিন সিটি গড়ার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান
আন্তর্জাতিকএআই উন্নয়নে মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহবান নরেন্দ্র মোদির
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা, সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা
খেলাভারত-মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি সুপার এইটের শুরুতে
মতামত

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্রাজিডি

হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য কি?

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২৫ ফেব্রুয়ারী ২৬ বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা ট্রাজেডির ১৭ বার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্ত্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল।

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি ইতিহাসের ঘৃণীত অধ্যায়। সেদিন বাংলা হারিয়েছিল জাতির সূর্য সন্তানদের। বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্য রহস্য জাতিকে বিগ ফ্রাসীবাদী শাসনক জানতে দেয় নাই। বর্তমান সরকারের উপর প্রত্যাশা করতেই পারি তারা বিডিআর বিদ্রোহের প্রকৃত রহস্য জাতিকে জানাবেন। এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ঘটিত কমিশন নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে কাজ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতিকে এর রহস্য জহানাবেন। সেই সঙ্গে সেনা হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১‘র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়। বাংলাদেশের ওপর আধিপত্যবাদী শক্তির দখলদারিত্ব চীরস্থায়ী করতে ফ্যাসীবাদী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের অংশই ছিল পিলখানা হত্যাকান্ড। এটি কোনো বিদ্রোহ ছিল না, ছিল পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে দেশকে চোরাবালির সন্ধিক্ষণে দাঁড় করানো হয়েছিল।

০২. ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত ড. ইউনুস সরকার বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের প্রায় দেড় দশক পর ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু করেছিল। গঠন করা হয়েছিল জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন, যার লক্ষ্য পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা। ২০০৯ সালের ওই বিদ্রোহের ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানান প্রশ্ন তুলে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা জড়িত থাকার পরও তদন্তে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার পেছনে বিদেশি সংস্থার হাত ছিল বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। যদিও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার বরাবরই বিষয়গুলো অস্বীকার করে এসেছে।

বিডিআর বিদ্রোহের নামে ১৬ বছর আগে পিলখানায় সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা দাবী করেছেন যে, ‘ইতিহাসের এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি।' কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, ‘তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারি বজায় রাখা হয়েছে। আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। আমরা দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি।

ওই হত্যাযজ্ঞের মূল কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড হওয়ার অনেক কারণ আছে। এক হলো—বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যেমন—ডাল-ভাত কর্মসূচি একটা, তারপর বিডিআর শপ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে বিডিআর সদস্যদের ডিউটি অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। এটা বিডিআরের ক্লাসিক্যাল বিষয়ের সঙ্গে যায় না। কিছু বিডিআর সদস্য যেভাবেই প্রণোদিত হয়ে থাকুন, তাঁরা সেনাবাহিনীর অফিসারদের এখানে চাচ্ছিলেন না। এটা একটা ছিল। আর বিডিআরের মধ্যে অনেক টানাপড়েন ছিল, যেগুলো আমরা বের করতে সক্ষম হয়েছি। এ রকম অনেক কারণ ছিল এই হত্যাকাণ্ড সংঘটনে। এ ছাড়া ওই সময়ের সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।’

০৩. জাতি হিসাবে আমাদের দুর্ভাগ্য, দীর্ঘ পাঁচ দশকেও আমরা আমাদের ঘর সামলাতে সক্ষম হইনি। পারিনি শক্ত মাটিতে পা রেখে চলতে। কে আমাদের বন্ধু এবং কে আমাদের শত্রæ তাও সঠিকভাবে নির্নয় করতে পারিনি। ইতিহাস বলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধের নামে যে প্রহসন সংঘটিত হয়, তার অদূরে হাজারো জনতা আগ্রহ ভরে দেখেছিল কি হচ্ছে। দেখতে দেখতে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য্য অস্তমিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর লেগেছে সেই সূর্য্য ছিনিয়ে আনতে। আবারো পাকিস্তানী শাসকগেষ্টির বিরুদ্ধে আরেকটি রক্তক্ষয়ি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় লাল সবুজের পতাকা আর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে যে রাষ্ট্রের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে, সেই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ শুকুনীর কালো থাবায় ক্ষত-বিক্ষত।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিআর বিদ্রোহের যে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল তা যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে উপর চরম আঘাত তা দিবালোকের মত স্পষ্ট। ঐদিন বিডিআর সদর দফতরে সেনাকর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে যে বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পূরনে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে ২০-২৫ বছর লেগে যাবে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা সে কাজটি সূচরুভাবে সম্পাদন করতে পেরেছিল তাদের আভ্যন্তরিন দালালদের সহযোগতায় আর আমাদের জাতীয় ঐক্য না থাকার সূযোগে। এই হত্যাকান্ড তো বাংলাদেশের কারো লাভ হয়নি, তাহলে লাভ হয়েছে কাদের? তাদেরই যারা বাংলাদেশকে দেখতে চায় একটি অকার্যকর, দুর্বল, ভঙ্গুর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায় তাদেরই। সেনাকর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত এই গণহত্যায় নিঃসন্দেহে দুর্বল হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্ত্র প্রহরী সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষার জনগনের আস্থার স্থল বিডিআর। বিডিআরের বীরত্ব ও সাহসীকতা সর্বজনবিদিত।

০৪. ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিআর বিদ্রোহের আগের দিন হঠাৎ করেই বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ নিরাপত্তা জোরদার করে তোলে। আমদানি-রফতানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এঘটনা থেকে প্রশ্ন উদ্বেগ হওয়াটা স্বাভাবিক তাহলে কি ভারত জানত পরদিন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন ঘটনা ঘটছে? স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের কারনে বাংলাদেশ কখনো মাথা সোজা করে দাড়াতে পারেনি। গুটি কয়েক ভারতীয় পাচাঁটা দালাল বাদে ভারতের অব্যাহত সীমান্ত-সাংস্কৃতিক-পানি-বাণ্যিজ্য আগ্রাসনের কারনে দেশবাসী মনেই করে ভারত কখনো বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি।

স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করার যে চক্রান্ত ধাপে ধাপে সে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে ২৫ ফেব্রæয়ারী পিলখানায় নির্মম হত্যাকান্ড সেই ষড়যন্ত্রেই অংশ। এই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের ধারাবাহিকতায়ই বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআর দু‘টোকেই দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের এতগুলো কর্মকর্তাকে একসাথে হত্যা কোন কাতালীয় ঘটনা কিংবা দুঘর্টনা হিসাবে চিহ্নিত করার কোন সুযোগ নেই। ৬৩জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মেধা ও সক্ষমতাকে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়েছে। অপর দিকে যে বিডিআর স্বাধীন বাংলাদেশে দীর্ঘ ৩৭বছর ধরে অতন্ত্র প্রহরীরুপে সীমান্তে বিদেশী আগ্রাসন সফল ভাবে প্রতিহত করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব মুছে গেছে। ঐতিহ্যবাহী বিডিআর এখন বিজেপি নাম ধারন করেছে।

আর সীমান্তে প্রতিনিয়ত জোরদার হয়েছে ভারতীয় বিএসএফের আগ্রাসন। এখনো সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করছে ভারতীয় বিএসএফ, হত্যার পর ফেলানী লাল কাটা তাঁরে ঝুলিয়ে রেখে উল্লাশ করেছে বিএসএফ। পিলখানার ঘটনা যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেবার জন্যই যে ঘঁটানো হয়েছিল তা আজ দিবালোকের মতই স্পষ্ট। এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় ষড়যন্ত্র। এক ধরনের প্রতিশোধও বটে।

০৫. বিডিআর ট্রাজেডির ১৬বছর হলেও এখন পর্যন্ত এর প্রকৃত রহস্য জাতি জানতে পারেনি। দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হলেও একটি তদন্ত কমিটির আংশিক প্রকাশ হলেও পুরোটা আজও জাতি জানে না। সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরিন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জাতি জানে না। দুঃখ ১৬বছরে জাতীয়ভাবে ২৫ ফেব্রæয়ারীকে শোক দিবস হিসাবে পালন করতে পারিনি আমরা। রাজনৈতিক দলগুলো এখনও এই বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। প্রকারন্তরে ২৫ ফেব্রুয়ারী নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দলগুলোর ভুমিকা দেখলে মনে হয় ভারত অখুশি হতে পারে বলেই তারা বিষয়টি এড়িয়ে চলেন।
২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানা ট্রাজেডির গতানুগতিক বিচারে কি প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। জাতির স্বার্থেই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা উচিত। চিহ্নিত করে যদি অপরাধীদের বিচার করা সম্ভব না হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আজকের নেতৃত্বে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। জাতীর এই কলংক জনক অধ্যায়কে মুছে ফেলতে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এতগুলো চৌকশ কর্মকর্তাকে একদিনে হত্যা করা জাতির স্বাধীন অস্তিত্বের জন্য কত বড় আঘাত তা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এই ঘটনা নিরব পলাশী হিসাবে যেন চিহ্নিত না হয়। জাতীয় ইতিহাসের এই পলাশীতে কারা নব্য মীরজাফর, কারা নব্য জগৎশেঠ-রাজবল-ক্লাইভ তাদের চিহ্নিত করতে হবে। গত ১৬ বছরেও সেটা চিহ্নিত করতে না পারাও কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ ? এই রাষ্ট্রঘাতি চক্রান্তের ভয়বহতা যদি আমরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে না পারি তাহলে জাতি আমাদের কিছুতেই ক্ষমা করবে না। ২৫ ফেব্রুয়ারী শুধুমাত্র একটি হত্যাকান্ড নয় এটি হলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর চরম আঘাত।

০৬. বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক পাতাই রক্তে রঞ্জিত। অনেক রক্ত আমরা দেখেছি, দেখেছি উম্মুক্ত প্রান্তরে, শহরের রাজপথে কিংবা সেনাছাউনীতে। আর কত উচ্ছৃঙ্খলতা, কত হানাহানি, কত রক্তক্ষরন বাকী ? এর শেষ হবে খোথায় ? পিলখানার ট্রাজিডির কলংক কবে মুছবে ? আর কত নতজানু হতে হবে জাতিকে? ক্ষমতায় যেতে কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকতে শাসগোষ্টির ভারতীয় প্রভুদের পদলেহনের দৃশ্য আর কত কাল দেখবে জাতি ? আমাদের শাসকগোষ্টি মাথা নত করতে করতে এখন মাটিতে মাথা ছুয়ে ফেলেছে বলেই হয় ২৫ ফেব্রæয়ারীকে দায়সারা ভাবে স্মরণ করতে চাইছি। কে এই দিনটি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করতে পারছি না ?

আমরা সেই সব সন্তানদের প্রতি লজ্জিত এবং দুঃখিত, যারা পিলখানার নারকীয় হত্যাকান্ডে তাদের পিতামাতা হারিয়েছেন, যারা স্বামী হারিয়েছেন। স্বজনহারা এসব পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেবার ভাষা আমাদের জানা নাই। যেদিন এই হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার হবে, সেদিন হয়তো স্বজনহারারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকারের তদন্ত কমিশিন জনগনের সেই আশা পূরন করতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

০৭. পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারের সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ও সদিচ্ছা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা পুরো প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিতে কিংবা ব্যাহত করতে সদা সক্রিয় রয়েছে। তা নাহলে এমন একটি জাতীয় ট্রাজেডির সাথে জড়িত এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কিভাবে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ পেল! অনেক দেরিতে হলেও আ ল ম ফজলুর রহমানের মত সাহসী দেশপ্রেমিক সেনানায়ককে প্রধান করে নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের দুইদিনের মধ্যেই সাবেক বিজিবি মহাপরিচালককে বিদেশে যাওয়া বারিত করার মধ্য দিয়ে পিলখানা হত্যাকান্ডের ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে বলে দেশবাসী মনে করে।

পিলখানায় একটি পরিকল্পিত গণহত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সেখানে ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের প্রচারণা চালিয়ে প্রকৃত অপরাধী ও মূল কুশীলবদের তদন্ত ও বিচারের বাইরে রাখা হয়েছিল। ভারতের পুতুল সরকারের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সরকারের এ বিষয়ে দায়সারা, গা ছাড়া ভাব মেনে নেয়া যায়না। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও পাচারের হোতাদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। শেখ হাসিনাসহ বিডিআর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রভাবশালী কুশীলবদের যারা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাদের বিষয়েও তদন্ত হওয়া দরকার বলে জনগন মনে করে। অসম সাহসী সেনানায়ক আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিশন পিলখানা হত্যাকান্ডের মূল হোতাদের বিচারসহ দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন করতে সক্ষম হবে বলে আমরা আশাবাদি।

০৮. আমরা যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে কিংবা ক্ষমতায় যেতে আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী শক্তির কাছে নিজেদের বিবেক-বিবেচনা বন্ধক দেই, যদি আমরা পরাভূত হই সেই অপশক্তি ও অপশক্তির দালালদের কাছে, আপস করে ফেলী, তাহলে আমি নিশ্চিত ২৫ ফেব্রুয়ারীর চাইতে ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। অপশক্তির লালনকারীরা ধারকে ও বাহকরা আরও উৎসাহিত হয়ে তাদের স্বার্থ চরিতার্থে আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘঁটাবে এই কথা দ্বীধাহীনভাবে বলা যায়। আর যারা আপোষ করবেন তাদের স্থান হবে ইতিহাসের আস্তাকুরে। আপোষ করে হয়ত ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে কিংবা কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে কিন্তু ইতিহাসে মীরজাফর হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকতে হবে।

আজ আমাদের ঐ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আজ প্রয়োজন, জরুরী প্রয়োজন, একান্ত প্রয়োজন আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য। দলীয় সংকীর্ণতার উর্দ্বে উঠে, ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকার মোহমুক্ত হয়ে সবাই সবাইকে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত হওয়া, নিবেদিত হওয়া। মনে রাখতে হবে দেশ থাকলে সবাই থাকবেন। যে দেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় তার ক্ষয় নাই, পরাজয় নাই।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সময় গঠিত মেজর জেনারেল (অব.) আ.ল.ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিটি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে নাই। আমরা চাই, তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত যে সত্য অনুসন্ধান রিপোর্ট তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।

বিডিআর এ মেধাবী চৌকস সেনা অফিসারদের পোস্টিং দেয়া হয়েছিলো। এদেরকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দেখছি, এই হত্যাকাণ্ডের যে বিচার হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা, ভেরি স্লো। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত এর বিচার শেষ হবে না। অতি দ্রুত প্রয়োজন লাগলে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে যাদের যাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে প্রত্যেককে ঝুলিয়ে দেন। তাহলে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে।

আজ প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারন করে নতুন সরকারকে অবশ্যই জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জাতীয়তাবাদী চেতনার তারেক রহমানের সরকারকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ২৫ ফেব্রয়ারী পিলখানা ট্রাজেডি থেকে শিক্ষা গ্রহন করে জাতীয় এজন্ডা নির্ধারন করতে হবে। আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ২৫ ফেব্রয়ারী পিলখানা ট্রাজেডি স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করি।

লেখক : রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন