বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন কথাসাহিত্যিক মেহেরপুরের নাসিমা আনিস
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জেলার কৃতি কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস অর্জন করেছেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। এ অর্জনে আনন্দ ও গর্বে উচ্ছ্বসিত জেলার সাহিত্যপ্রেমী মহল।
চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ী নিবাস মেহেরপুরের মুজিবনগরের ঐতিহ্যবাহী বল্লভপুর গ্রামে। নাসিমা আনিস উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে। তিনি সেখান থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকার হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি মেহেরপুরের আরেক কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমানের সহধর্মিণী।
সাহিত্যাঙ্গনে নাসিমা আনিস বহুমাত্রিক অবদান রেখে চলেছেন। তিনি গল্প, উপন্যাস ও শিশুতোষ সাহিত্য রচনায় সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ৫টি গল্পগ্রন্থ, ৬টি উপন্যাস এবং ৬টি শিশুতোষ গ্রন্থ- মোট প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কাঞ্চনের জন্য ভালবাসা’, ‘চন্দ্রভানুর পিনিস’, ‘বৃহন্নালা বৃত্তান্ত’, ‘সূর্য ওঠার সময়’, ‘কুয়াশা কুয়াশা ভোর’, ‘স্বপ্ন আমার বাঁচবো’, ‘মোহিনীর থান’ ও ‘কিডনির কারবার’। এছাড়া তাঁর আলোচিত গল্প ‘কয়লা নামে কোন জায়গা নেই’ বিশেষভাবে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গ বিষয়ক উপন্যাস ‘মোহিনীর থান’-এর জন্য তিনি ‘আজকের কাগজ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার’ অর্জন করেন, যা তাঁর সাহিত্যকীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পারিবারিক জীবনেও তিনি সমান গর্বের অধিকারী। তাঁর কন্যা আদবানা আনিস বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় অনার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত। পুত্র এস এম আসিফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ অধ্যয়নকালে সাউদার্ণ ইলিনয়স ইউনিভার্সিটি এডওয়ার্ডভিল থেকে ২০২১ সালে ‘কমপিটিটিভ গ্রাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন।
নাসিমা আনিসের এই জাতীয় স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের জন্যও এক গর্বের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর এই সাফল্যে সাহিত্যাঙ্গনের পাশাপাশি জেলার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে