চিয়া সিড চাষে লাভ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন দিদার
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরার সবুজ প্রান্তরে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ‘সুপার ফুড’ চিয়া সিড। মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের নড়িহাটি গ্রামে দেড় একর জমিতে মাত্র ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে চিয়া সিড চাষ করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দিদার আহমেদ।
সফল ফলনের আশায় তিনি এখন প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন। প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের কৃষকরা। আমেরিকা, কানাডা ও ব্রাজিলসহ উন্নত বিশ্বের জনপ্রিয় এ অর্থকরী ফসলটি সরেজমিনে দেখতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।
কৃষিবিদ্যায় ডিগ্রিধারী দিদার আহমেদ জানান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আক্কাস খান–এর সহযোগিতায় গত নভেম্বর মাসে তিনি বিদেশি উচ্চমূল্যের এই ফসলের বীজ বপন করেন। তার ভাষ্য, বীজ বপন থেকে শুরু করে সার প্রয়োগ, সেচ ও ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং ব্যয়ও কম। মাত্র ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বীজই যথেষ্ট হয়।
দিদার জানান, এর আগে তিনি সামার টমেটো, পেয়ারা, বিভিন্ন জাতের বড়ই-কুল, বারোমাসি লাউ ও স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তবে চিয়া সিড নিয়ে তার আত্মবিশ্বাস আরও বেশি। তিনি বলেন, “অন্য অনেক ফসলের তুলনায় এতে রোগবালাই কম হয় এবং পরিচর্যাও সহজ। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি।”
গত বছর একই গ্রামের মাসুদ আলম পরীক্ষামূলকভাবে চিয়া সিড চাষ করে ভালো ফলন পান। তার সেই সাফল্যই দিদারকে বৃহৎ পরিসরে চাষে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছে। স্থানীয় কৃষক রাইসুল ইসলাম, মনি বিশ্বাস ও কমল হোসেন জানান, নতুন এ অর্থকরী ফসল এলাকায় লাভজনক কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকই চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর মাগুরা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে জেলায় প্রায় ১৫০ একর জমিতে চিয়া সিডের আবাদ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সুপারশপ ও অনলাইন বাজারে প্রতি কেজি চিয়া সিড ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তোকমা বা তিলের মতো দেখতে ছোট এই বীজে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, প্রোটিন ও ওমেগা–থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি যুক্ত করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাগুরায় চিয়া সিড চাষের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সাহসী উদ্যোগে এই ফসল ভবিষ্যতে মাগুরার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে