মহিপুরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর, চিকিৎসা ব্যাহত
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মহিপুর এলাকায় অবস্থিত কেয়ার মডেল হাসপাতাল-এ এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানা সদরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ-এর ছাত্রদলের নেতা সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন যুবক হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে গ্লাস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করছে। এ সময় আতঙ্কিত রোগী ও তাদের স্বজনরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
হামলায় আহত মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদ, আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ ও জয়ানালসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সিয়াম দাবি করেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ও কামরুল তাদের কয়েকজনকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতালে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মো. মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কেয়ার মডেল হাসপাতাল বলেন, হাসপাতালের বাইরে দুই পক্ষের মারামারির এক পর্যায়ে এক পক্ষ ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের পিছু নিয়ে আরও ১০-১২ জন যুবক হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ জানান, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং পটুয়াখালী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক পক্ষ হাসপাতালে ঢুকে গেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে