২ দিনে দেবিদ্বারে কুকুরের আক্রমণে আহত ২৪, ভ্যাকসিন সংকট
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে গত দুই দিনে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ মোট ২৪ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও বাকিদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের অধিকাংশই শিশু ও নারী।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফ হোসেন সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে কুকুরে কামড়ে আক্রান্তদের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। এতে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফার্মেসীতে কিছু ভ্যাকসিন থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে অত্যধিক মূল্যে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামের রহিমা বেগম (৫৫), দেবিদ্বার পৌর এলাকার রাবিয়া আক্তার, শিবনগর গ্রামের মানহা আক্তার, ছোট আলমপুরের মো. আনাছ, নামির হাসান, মো. জাভেদ, মো. ইয়াছিন, ছায়া রানী, ইমন হাছান, মোসা. শারমিন আক্তার, আব্দুল্লাহ, ধামতী গ্রামের কারিমা আক্তার, বারেরা এলাকার তানভীর, হাদিপুর গ্রামের মোসা. মাইশা আক্তার, মুরাদনগর উপজেলার বাইরা গ্রামের মো. ইশান মিয়া, মো. আবির হোসেন, গুনাইঘরের আমেনা বেগম, রাজামেহারের মেহেরিমা আক্তার, বিজলী পাঞ্জারের আনোয়ারা বেগম, জান্নাত আক্তার, ফতেহাবাদের মরিয়ম আক্তার, মো. আয়ান, তাহমিনা আক্তার ও রসুলপুরের মো. আরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি।
আহত নামির হাসানের বাবা নাজমুল হাসান নাহিদ বলেন, “একটি লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের পাগলা কুকুর গত দুদিন ধরে রাস্তায় দৌড়াচ্ছে এবং সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে শিশুরা। তাদের অনেকের গলা, পিঠ ও পায়ের মাংস আলাদা হয়ে গেছে।”
আহত আরিফুল ইসলামের বাবা তাজুল ইসলাম জানান, “আমার ছেলেসহ ২৪ জনকে কুকুর কামড়িয়েছে। আমার ছেলেকে কানের নিচে ও গলায় কামড় দিয়েছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নেই, বাহির থেকে কিনে দিতে হয়েছে। ফার্মেসীতে ভ্যাকসিনের দামও খুব বেশি।”
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফ হোসেন সোহাগ বলেন, “গত দুইদিনে প্রায় ২৪ জনকে কুকুর কামড়িয়েছে। তাদের সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের হাত, পা, পিঠ ও গলায় কামড়ের চোট গুরুতর, তাই তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নেই।”
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “পাগলা কুকুরের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কুকুরটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালের ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ জানান, “কুমিল্লার সব হাসপাতালেই ভ্যাকসিন সংকট চলছে। আমরা ভ্যাকসিন ক্রয় করার চেষ্টা করছি। দেবিদ্বারে কুকুরে কামড়ে যারা আহত হয়েছেন, তাদের হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।”
১২৬ বার পড়া হয়েছে