উল্লাপাড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষা বন্ধ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর এলাকার ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটেশনকৃত (সংযুক্তি) প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক শাহ আলম বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক বাধা দিলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের ৮০ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরসংবলিত অভিযোগপত্রটি এলাকাবাসীর পক্ষে রেশমা খাতুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক শাহ আলম ক্লাস পার্টির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করেন। এছাড়া ৫ম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক আন্দোলনের নাম করে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে কোনো ধরনের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, গ্রুপিং, সিনিয়র শিক্ষকদের অসম্মান এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক হয়েও নিয়মিত ওই শ্রেণির ক্লাস নেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে প্রধান শিক্ষক ও সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসিনা খাতুন অসুস্থজনিত কারণে শাহ আলম ডেপুটেশনে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। তবে যোগদানের পর থেকে তিনি নিজ প্রভাব বলয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি করবেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বদমেজাজি এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এ বিষয়ে অভিভাবক কেয়া, ছালমা ও সুরাইয়া পারভীন জানান, শাহ আলম মাইকিং করে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করেছিলেন। এছাড়া ক্লাস পার্টির নামে ১০০ টাকা এবং বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ৩০০ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, “শাহ আলমের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা অভিযোগপত্রটি তদন্তের জন্য তার দপ্তরে এসেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে