১৭ বছরের শপথ ভাঙলেন বিএনপি সুরুজ, বিজয়ের পর পায়ে উঠল জুতা
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের বিএনপি নেতা সুরুজ পাঠান দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে চলার পর অবশেষে জুতা পরেছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাড়িতে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে জুতা পরিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে অপমানের শিকার হওয়ার পরই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন-দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত আর কখনো জুতা পরবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে প্রায় দেড় দশক খালি পায়েই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তিনি।
সুরুজ পাঠান বর্তমানে ইয়ারপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে প্রতিপক্ষের কটূক্তি ও অপমানজনক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জুতা খুলে ফেলেন এবং শপথ নেন, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত আর জুতা ব্যবহার করবেন না। এরপর থেকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, কাদা মাড়িয়ে বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি।
পরিবার ও স্বজনরা একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ করলেও তিনি শপথে অটল ছিলেন। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর তার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
বুধবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জুতা পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও স্লোগানে আনন্দ প্রকাশ করেন।
জুতা পায়ে দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে সুরুজ পাঠান বলেন, ২০০৮ সালে ভোটকেন্দ্র থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই শপথ করেছিলাম দল না জেতা পর্যন্ত জুতা পরব না। আজ সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে। মনে হচ্ছে, শুধু পায়ে জুতা নয়-মাথাও উঁচু হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ পাঠান দলের প্রতি ত্যাগ ও একনিষ্ঠতার প্রতীক। দুঃসময়ে যারা অবিচল থেকেছেন, তাদের অবদানই আজকের অর্জনের ভিত্তি।
১১৮ বার পড়া হয়েছে