স্বামী হত্যার বিচার চাইলে থানায় হয়রানি, ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বক্তব্য
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধায় আইনজীবী সহকারী অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তার স্ত্রী দীপা রানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ওসি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতি। এতে সুজনের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহত সুজনের স্ত্রী দীপা রানী অভিযোগ করেন, তার স্বামী হত্যার ঘটনায় প্রকৃত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার না করে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানালে সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে ও তার দেবরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।
দীপা রানীর দাবি, ওসি তাকে লাথি মারার হুমকি দেন এবং থানায় ডেকে নিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অ্যাম্বুলেন্সে কান্নাকাটি করায় ওসি তাকে কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘এগুলো ন্যাকামি কান্না, আমার সামনে চলবে না’ বলে ধমক দেন। এমনকি তাদেরই অপরাধী বলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, সন্দেহভাজন বিমল কুমারের ছেলে লিমন কুমারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী সহকারী মাজু, আইনজীবী সহকারী আলম ও ছকু, এবং জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুন্নান হক্কানীসহ অনেকে। বক্তারা অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুন্নান হক্কানী বলেন, একজন থানার ওসির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি ওসির প্রত্যাহারের দাবিও জানান।
তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে জানান, দীপা রানীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে জানতে মো. জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার, গাইবান্ধার সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় অমিতাভ চন্দ্র রায় ওরফে সুজন (৩৫) নিহত হন। তিনি জেলা জজকোর্টের মুহুরী ছিলেন এবং মৃত নিরঞ্জন চন্দ্র সরকারের ছেলে।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি সুজন স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ শতক জমি কিনেছিলেন। প্রতিবেশী বিমল কুমারের ছেলে লিমন কুমার ওই জমি কিনতে না পেরে ক্ষুব্ধ হন। এর আগে জমি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলেও জানায় পরিবার। নিহতের মা সিন্দু রানী বলেন, কিছুদিন আগে লিমন সুজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তাই হামলার ঘটনায় তার সন্দেহ লিমনের দিকেই।
এ ঘটনায় লিমন কুমার নামে এক প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
১১৮ বার পড়া হয়েছে