চাঁদপুরে ৫টি আসনে ২৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ফলাফলে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ব্যাপক হারে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও ছিলেন।
তবে ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জন নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম সীমা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অনেক প্রার্থী এক হাজার ভোটও পাননি।
জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৫ জন। এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।
রাজনৈতিক দলগুলোর ফলাফলে দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। দলটি চার আসনে মোট ৩৮ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহও জামানত হারিয়েছেন। একসময় সরকারে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি চারটি আসনে অংশ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়েছে। গণফোরাম তিনটি আসনে ৮৭৬ ভোট পেয়েছে।
এছাড়া ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট মোমবাতি প্রতীক নিয়ে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়েছে। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী চাঁদপুর-৫ আসনে চেয়ার প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়েও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
জামানত হারানো অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ-এর ট্রাক প্রতীকের তিন প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, মো. এনায়েত হোসেন ও মো. গোলাপ হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঘুড়ি প্রতীকের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-এর কাস্তে প্রতীকের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের জাকির হোসেন প্রধানিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর আপেল প্রতীকের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি-এর আনারস প্রতীকের নাসিমা নাজনিন সরকার, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি-এর হাতি প্রতীকের মো. ফয়জুন্নুর এবং নাগরিক ঐক্য-এর কেটলি প্রতীকের মো. এনামুল হক।
আসনভিত্তিক ফলাফল
চাঁদপুর-১ (কচুয়া):
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আনম এহছানুল হক মিলন ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৬৮ ভোট। জামানত হারানোদের মধ্যে গণফোরামের মোহাম্মদ আজাদ হোসেন (৩২৯), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (৪ হাজার ৩৭১), গণঅধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন (২১৭) ও জাতীয় পার্টির হাবিব খান (৬৫২) রয়েছেন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ):
বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এলডিপির মো. বিল্লাল হোসেন পান ৫৭ হাজার ৪৭৩ ভোট। জামানত হারানোদের মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনিন সরকার (২৮৩), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. ফয়জুন্নর (৫০৯), গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাপ হোসেন (৩১৫), নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক (১৪৩), ইসলামী আন্দোলনের মানসুর (১২ হাজার ৩০৭) ও জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া (১ হাজার ৩২৮) রয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর):
বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬৫ ভোট। জামানত হারানোদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এএইচএম আহসান উল্লাহ (২ হাজার ২৭৪), ইসলামী আন্দোলনের মো. জয়নাল আবদিন শেখ (১৪ হাজার ১৮১), গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন (১৩২), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৬৭৬) ও গণফোরামের সেলিম আকবর (৩০৭) রয়েছেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ):
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান (চিংড়ি প্রতীক) ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট এবং জামায়াতের মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৬৯২ ভোট। জামানত হারানোদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাকির হোসেন (১৮৪), ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন (৫ হাজার ২৬১), জাতীয় পার্টির মাহমুদুর হাসান (২৭৭), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবদুল মালেক (৫০৯) ও গণফোরামের মো. মুনীর চৌধুরী (২৪০) রয়েছেন।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহারাস্তি):
বিএনপির মো. মমিনুল হক ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এলডিপির মো. নেয়ামুল বশির পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৬০ ভোট। জামানত হারানোদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মির্জা গিয়াস উদ্দিন (১ হাজার ৫১৬), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী পাটওয়ারি (৬ হাজার ৬৮১), স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন প্রধানিয়া (২৬৮), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন (২৫৬) এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (১৩ হাজার ১৭৮) রয়েছেন।
সব মিলিয়ে চাঁদপুরের পাঁচ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে