কলাপাড়ায় রমজানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে ক্রেতারা
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই কলাপাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।
এতে করে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন ও চিনি প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি ইলিশসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ব্রয়লার, সোনালী ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গরু ও খাসির মাংসের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বাজারে আসা অনেক ক্রেতার মুখে বিরক্তি ও অসন্তোষের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আ. সবুজ মিয়া বলেন, 'রমজান এলেই কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা।'
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে। মৎস্য বিক্রেতা মো. জব্বার জানান, 'আমরা বেশি দামে মাছ কিনছি, তাই বাধ্য হয়েই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।'
কাঁচামাল ব্যবসায়ী আ. রহিম মিয়া বলেন, 'নির্বাচনের কারণে মোকাম থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে। তার সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়েছে, ফলে খুচরা দামে প্রভাব পড়েছে।'
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার হামিদ বলেন, 'জেলায় বৈঠক হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং শুরু হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রমজানকে সামনে রেখে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কার্যকর বাজার তদারকির মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
১৭৩ বার পড়া হয়েছে