বাগেরহাটে ভোট পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ৯০
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটে ভোট শেষে বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক এক যুবক। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ভোটের আগ থেকেই বাগেরহাট সদর ও কচুয়া এলাকায় বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ভোটের পর পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে পাল্টাপাল্টি হামলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ১৪টি এবং শরণখোলা-মোরেলগঞ্জে ৬টি বসতবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার ৬ জন এবং শুক্রবার ২ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার ও শনিবার দু’দিন ধরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য পপলু সরদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর এবং জামায়াতের মুজাহিদসহ কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোটের আগের রাতেও এই এলাকায় দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ঘোড়া প্রতীক’ এবং বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম এবং বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন এবং পৌনে চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
সংঘর্ষের সময় আহত একই গ্রামের ইমরান সরদার জানান, শুক্রবার বিকেলে পশ্চিম পারনওয়াপাড়ার বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন দা ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের খুঁজতে আসে। যাকে সামনে পায়, তাকেই মারধর করে। গ্রামবাসীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ইমরান ও ওসমানসহ অনেকে আহত হন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শামীম হোসেন বলেন, পারনওয়াপাড়া ও ছিটাবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের ধরতে অভিযান চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
সদর উপজেলার চুনখোলা, মান্দ্রা, চুলকাঠি ও অন্যান্য এলাকায় বিএনপি, জামায়াত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় দু’দিনে প্রায় ৬ দফা সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া, আন্ধারমানিক ও গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই দিনের সংঘর্ষে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। মোংলার মাদুরপাল্টা এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন, 'বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত আছে। আমরা সকল প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে কর্মীরা শান্ত থাকে। অপরাধীদের কোন ছাড় নেই, প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
১২৪ বার পড়া হয়েছে