মোংলায় সুন্দরবন দিবস উদযাপন: ক্ষতিসাধনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ডে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ ক্ষতবিক্ষত।
শনিবার বিকেলে মোংলা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত সুন্দরবন দিবসের জনসমাবেশে এসব মন্তব্য করা হয়। এই আয়োজন করেছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার। সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিলো উত্তরণ, সিএনআরএস, বাদাবন সংঘ ও সার্ভিস বাংলাদেশ।
জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বকারী মোঃ নূর আলম শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। বিশেষ অতিথি বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, ক্রীড়াবিদ শেখ রুস্তুম আলী, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার।
জনসমাবেশে অংশ নেন সুন্দরবনের জেলে বিদ্যুৎ মন্ডল, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের টিম লিডার ইসরাফিল বয়াতি, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলে বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, সার্ভিস বাংলাদেশ’র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, কমলা সরকার, বৃষ্টি সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের হাসিব সরদার এবং ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শরীফ জামিল বলেন, 'প্রতিবছর সুন্দরবন দিবসে আমরা সুন্দরবন রক্ষার আহ্বান জানাই, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সুন্দরবন ততই বিপন্ন হচ্ছে। জাতিসংঘ সরকারকে সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছে। আমরা চাই নতুন সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিজ্ঞানসম্মত একটি স্বচ্ছ সমীক্ষা করবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ, বিষ দিয়ে মাছ মারা ও অন্যান্য হুমকি থেকে সুন্দরবনের সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।'
উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, 'সুন্দরবনে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবনাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব সুন্দরবনের ওপর নেতিবাচক। কয়লা দূষণ এবং শিল্প দূষণের কবল থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। কোনো ধরনের সুন্দরবন বিনাশী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।'
জনসমাবেশের আগে সুন্দরবন বিষয়ক শিশু চিত্রাঙ্কন, বাঘ মহড়া, লাঠিখেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
১৩০ বার পড়া হয়েছে