নাটোরের চার আসনে ২৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর জেলার চারটি আসনে অংশ নেওয়া ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই জামানত হারিয়েছেন।
মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন ঘোষিত আনুষ্ঠানিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার চারটি আসনেই বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। বিএনপি, জামায়াত এবং নাটোর-১ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য সব দলের প্রার্থীরা নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হন। ফলে তাদের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া)
এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৯টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৩০১ ভোট। মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া বাকি ৭ জন জামানত হারান।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন-ডা. ইয়াসির আরশাদ (স্বতন্ত্র), আনছার আলী (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি), আব্দুল্লাহিল বাকী (ইসলামী আন্দোলন), মেহেদী হাসান (গণঅধিকার পরিষদ), মোয়াজ্জেম হোসেন (স্বতন্ত্র), সাহেদ আলী জিন্নাহ (জাতীয় পার্টি) এবং সেন্টু আলী (গণসংহতি আন্দোলন)।
নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা)
নাটোর-২ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩৫০টি। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ৩৮ হাজার ১৬৯ ভোট। ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানতের ৫০ হাজার টাকা হারান।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন-নুরুন্নবী মৃধা (স্বতন্ত্র), তাহামিদা ইসলাম তানিয়া (গণসংহতি আন্দোলন), মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং রকিব উদ্দিন কমল (জাতীয় পার্টি)।
নাটোর-৩ (সিংড়া)
এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮১টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ১৯৮ ভোট। ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারান।
তারা হলেন-এস এম জারজিস কাদির (এনসিপি), আশিক ইকবাল (জাতীয় পার্টি), খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং দেলোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র)।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম)
এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪১টি। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল ৩৯ হাজার ৮৯৩ ভোট। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন-এম ইউসুফ আহমদ (জাতীয় পার্টি), মো. এমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং মোকসেদুল মোমিন (এবি পার্টি)।
চার আসনেই বিএনপির জয়
এবারের নির্বাচনে নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে বিএনপি। নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু এবং নাটোর-৪ আসনে আব্দুল আজিজ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে