কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল চালককে হোটেলে আটক ও নির্যাতন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হাওলাদারকে (২২) আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার এক মাস পার হলেও তার স্বাস্থ্য এখনও সংকটাপন্ন।
গ্রামের মানুষের আর্থিক সহায়তায় কিছুদিন বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা চললেও অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় সাব্বিরের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সাব্বিরের মা, মোসা পারভীন বেগম (৫৫), জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কুয়াকাটা ফেরার পথে কুয়াকাটার যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) ও আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলসহ কুয়াকাটার কুটুমবাড়ি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে এলোপাথারি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে সাব্বির মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, তাকে ছাড়িয়ে নিতে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরিবার আইনি সহায়তা নিতে গেলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। পারভীন বেগম অভিযোগ করেছেন, মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার এক মাস পার হলেও মামলা রেকর্ড করা হয়নি।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'কুয়াকাটার একটি আড়ত থেকে সাব্বিরের মাধ্যমে মাছ না দেওয়ায় আড়ত সংশ্লিষ্টরা তাকে মারধর করেছে। আমি তার জামিনদার হয়েও টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছি, কিন্তু সাব্বির টাকা পরিশোধ করেনি। এ ঘটনার সাথে আমার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। বরং চিকিৎসার জন্য আমি মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে তার পরিবারকে দিয়েছি।'
মহিপুর থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, 'আমি এরকম একটি ঘটনা শুনেছি। খোঁজ-খবর নিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, পরিবার মামলা করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। চিকিৎসার খরচের জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এখন বিষয়টি দেখবো। তবে তাদের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।'
এই ঘটনায় সাব্বিরের পরিবার এবং স্থানীয়রা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। চিকিৎসা না চলার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে