জামালপুরে ৫ আসনেই বিজয়ী বিএনপি, জামানত হারালেন ২৪ প্রার্থী
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বড় জয় পেয়েছে বিএনপি।
জেলার মোট ৫টি আসনের সবকটিতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার ৫টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখের বেশি। ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা অন্তত ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামানত হারানো ২৪ জন প্রার্থীর কেউই এই ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
আসনভিত্তিক ভোটের বিস্তারিত ফলাফল:
জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ): ৫ জন প্রার্থীর এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৪৬টি। এতে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী ৭৫ হাজার ৮৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে জামানত হারিয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের মো. আব্দুর রউফ তালুকদার ৪ হাজার ১২১ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এ কে এম ফজলুল হক ৯৩১ ভোট এবং ট্রাক প্রতীকের মো. রফিকুর ইসলাম ২২৬ ভোট পেয়েছেন।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর): এই আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৫২টি। ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. ছামিউল হক পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪৩৪ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৩৩ হাজার ৪২৬ ভোট। জামানত হারিয়েছেন ২ জন প্রার্থী। তারা হলেন—হাতপাখা প্রতীকের সুলতান মাহমুদ (১ হাজার ৭১৩ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের অর্ণব ওয়ামেস খান (১৭৪ ভোট)।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ): জেলায় প্রদত্ত ভোটের সংখ্যার দিক থেকে বড় এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৯টি। ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে বিশাল জয় পেয়েছেন বিএনপির মোস্তাফিজুর রাহমান বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আজাদী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে সর্বোচ্চ ৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাদিকুর রহমান (১২ হাজার ৫২ ভোট), সূর্যমুখী ফুলের শিবলুল বারী রাজু (১০ হাজার ৫২৩ ভোট), হাতপাখার দৌলুজ্জামান আনছারী (২ হাজার ৫৪৬ ভোট), লাঙ্গলের মীর সামসুল আলম (৮৪৪ ভোট), মাথাল প্রতীকের ফিদেল নঈম (৬৪৩ ভোট), ট্রাক প্রতীকের লিটন মিয়া (৪১২ ভোট) এবং স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ফারজানা ফরিদ (২৮৪ ভোট)।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী): ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬১টি। ধানের শীষ প্রতীকের ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ভোট। জামানত হারানো ৪ জন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট যথাক্রমে—কাস্তে প্রতীকের মো. মাহবুব জামান জুয়েল ১৩১৪ ভোট, হাতপাখার মো. আলী আকবর ১৩০২ ভোট, ট্রাক প্রতীকের ইকবাল হোসেন ৩৮৩ ভোট এবং কেটলি প্রতীকের মো. কবির হাসান ৩৭৯ ভোট।
জামালপুর-৫ (সদর): জেলায় সবচেয়ে বেশি ১০ জন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এখানে মোট প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭০টি। ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০১ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৮৬ হাজার ১৪৩ ভোট। এই আসনে ৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাদের প্রাপ্ত ভোট—হাতপাখার ইউনুস আহাম্মদ ৪ হাজার ২৮২ ভোট, বাইসাইকেল প্রতীকের বাবর আলী খান ৩ হাজার ৭৩৯ ভোট, তারা প্রতীকের আমির উদ্দিন ৫৮০ ভোট, কাস্তে প্রতীকের আক্কাছ আলী ৫৪৭ ভোট, ট্রাক প্রতীকের জাকির হোসেন ৫৩৯ ভোট, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের মাসুদ ইব্রাহীম ৩৫৪ ভোট, স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকের হোছনেয়ারা বেগম ২৪৫ ভোট এবং ডাব প্রতীকের আবু সায়েম মো. সা-আদাত উল করিম ২২৫ ভোট।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে