পটুয়াখালীতে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় চায় জনতা
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালী–৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের গণমানুষের নেতা আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার দাবির জোর বাড়ছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ব্যাপারে তাদের আশাবাদ প্রকাশ করছেন। তারা মনে করছেন, উপকূলীয় এ অঞ্চলের দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার বলেন, 'পটুয়াখালী–৪ একটি সম্ভাবনাময় উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শেরে-বাংলা নৌ ঘাটি, কুয়াকাটা সাবমেরিন কেবল স্টেশন, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা এবং মৎস্য বন্দরসহ ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব থাকলে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।'
পায়রা বন্দরের ব্যবসায়ী সুমন গাজী বলেন, 'পায়রা বন্দরকে ঘিরে শিল্প-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করতে প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।'
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন মন্তব্য করেন, 'কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সড়ক যোগাযোগ, হোটেল-মোটেল জোন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। মন্ত্রিপর্যায়ে নজরদারি থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।'
মহিপুরের মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী বলেন, 'ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। এছাড়াও গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি। এর আগে এখানেই মন্ত্রী ছিলেন, তাই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রীর বিকল্প নেই।'
স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, 'উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ভাঙন, লবণাক্ততা এবং বেকারত্ব বড় সমস্যা। উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে কলাপাড়া উপজেলার উন্নয়নের স্বপ্ন পূর্ণ হবে।” তারা আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। তিনি মন্ত্রী হলে উপকূলীয় উন্নয়নের গতি বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।'
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করাচ্ছেন, মন্ত্রিত্ব সম্পূর্ণভাবে দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ, মন্ত্রণালয় বণ্টন এবং কৌশলগত বিবেচনাও বড় ভূমিকা রাখে।
উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে টেকসই অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ জীবিকার দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার বিষয়টি এখন পটুয়াখালী–৪ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে