রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর শুভেচ্ছা বিনিময়
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে নির্বাচনী উত্তাপ কাটিয়ে দুই প্রার্থী পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, যা গণতান্ত্রিক চেতনার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় অধ্যাপক আজাদের নিজ বাসভবনে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। উভয় নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো, ইনশাআল্লাহ।”
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য এক- জনগণের কল্যাণ। রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। জেলা ও মহানগরের আদলে রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়ন করা হবে। কালাম ভাই একটানা ২৮ বছর হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অধ্যাপক আজাদ বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “রাজশাহী-৩ আসনে বিজয়ী হওয়ায় অ্যাড. শফিকুল হক মিলন ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিজয় কেবল আনন্দের মুহূর্ত নয়, এটি বিশ্বাস রক্ষার গুরুদায়িত্ব। জনগণের আশা যেন বাস্তবে রূপ পায়-এই প্রত্যাশাই রাখি। আমার সামান্য সহযোগিতাও যদি কাজে লাগে, সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আমরা সবসময় জনকল্যাণে গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবো।”
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনাটিকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “রাজনীতিতে সৌজন্য ও সহমর্মিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এমন শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।”
রাজশাহী-৩ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হাবিবা পান ১ হাজার ১৭৭ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) আফজাল হোসেন পান ২ হাজার ৩৯০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) ফজলুর রহমান পান ১ হাজার ১৫৪ ভোট এবং আমজনতার দলের (প্রজাপতি) সাইদ পারভেজ পান ২৯৫ ভোট।
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে এমন সৌজন্যমূলক আচরণ রাজশাহী-৩ আসনে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১২৫ বার পড়া হয়েছে