মাদারীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের কাছে হেরে গেল জামায়াত
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের কাছে মাত্র ১১ হাজার ৫ শত ৪২ ভোটের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেছেন।
এই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা প্রতীক) ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে ১৩ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে থাকত, তাহলে এই ভোটগুলো দাড়িপাল্লায় পড়ত এবং তিনি ১১ হাজার ৫ শত ৪২ ভোটে হেরে না, বরং ১ হাজার ৫ শত ১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারতেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের অন্তঃদ্বন্দ্ব এবং একাংশ ভোটের ধানের শীষে চলে যাওয়া, সেই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক চেটিয়া ভোট ধানের শীষের পক্ষে যাওয়াও তার পরাজয়ের বড় কারণ।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় মাদারীপুর-৩ আসনে শুরু থেকেই আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার (বিএনপি, ধানের শীষ প্রতীক) ও জামায়াত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলামের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। দুই প্রার্থীই এই আসনের প্রতিটি গ্রামে নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। তবে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার কেন্দ্রগুলো থেকে এক চেটিয়া ভোট ধানের শীষের পক্ষে পড়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আজিজুল হক মোট ১৩ হাজার ৫৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলামের মতে, জোটে থাকলে এই ভোটগুলো দাড়িপাল্লার জোট প্রার্থী পেত এবং একাধিক জোট প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারত।
পরাজয়ের পর, জামায়াত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকে। আমার পরাজয় হয়েছে, তারপরও আমি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে বিজয়ী প্রার্থী মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এলাকায় উন্নয়ন কাজ করব ইনশাআল্লাহ।”
পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। আমরা তদনুসারে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। হঠাৎ তারা জোট থেকে বের হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারা এককভাবে যে ভোট পেয়েছে, তা যদি জোট প্রার্থী পেত তাহলে শুধু আমি না, আরও অনেক জোট প্রার্থী জয়লাভ করতে পারত। এছাড়া আওয়ামী লীগের একাংশের ভোট বিএনপি প্রার্থীকে এবং এক চেটিয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ধানের শীষকে যাওয়ায় আমি পরাজিত হয়েছি। নির্বাচনে যারা আমার সাথে ছিলেন এবং আমাকে জয়লাভের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ।”
১৩৫ বার পড়া হয়েছে