ফলাফল মেনে নেয়ার পর ভোট পুনর্গণনার দাবি সারজিসের
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পঞ্চগড়-১ আসনের ফলাফল নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী সার্জিস আলম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভোট পূর্ণগণনার দাবি জানিয়েছেন। তার এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ৮,১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন সার্জিস আলমের কাছে। ফল ঘোষণা চলাকালীন জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের পাশে বসেছিলেন সার্জিস আলম। ফল ঘোষণার পর তিনি বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান। উপস্থিতরা এবং সারা দেশ এই দৃষ্টান্তকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কার এবং অভিনব হিসেবে প্রশংসা করেন।
কিন্তু নির্বাচনের রাতে সার্জিস আলম সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমি জনগণের রায়কে সম্মান করি, তবে কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম এবং ফল পরিবর্তনের আশঙ্কা আছে”। তার দাবি, এসব অভিযোগ যাচাই না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। তাই তিনি সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান।
এর আগে তিনি জানান, “আমরা একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ভাইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। জনগণ যদি এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, সেই রায়কে সম্মান করা আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্মান দেখানো এবং তাঁর খুশির মুহূর্তে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।”
তবে অভিনন্দন জানালেও পরবর্তীতে সার্জিস আলমের ভোট পুনর্গণনার দাবির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন, ফলাফল ঘোষণার পর পূর্ণ গণনার দাবি তোলা জনগণ এবং নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থার বার্তা দেয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, “ফল ঘোষণা সময় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট ছিল। কোথাও কোন অঘটনের খবর পাইনি। সার্জিস আলম নিজে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারপরও এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতিতে এটা তার অপরিপক্কতার প্রমাণ।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে কোনো প্রার্থী লিখিতভাবে আপত্তি জানাতে এবং পুনর্গণনার আবেদন করতে পারেন। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে