নওগাঁর ছয় আসনে ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ ২০ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষা হয় না। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে উল্লেখিত ২০ জন প্রার্থী এ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
নওগাঁ-১ আসন
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।
মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন এবং প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় লাঙ্গল প্রতীকের আকবর আলী, হাতপাখা প্রতীকের মো. আ: হক শাহ্ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছালেক চৌধুরী জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-২ আসন
তিনজন প্রার্থীর এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের সামসুজ্জোহা খান পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।
মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ এবং প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০। এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৩ আসন
আটজন প্রার্থীর লড়াইয়ে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ফজলে হুদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাহফুজুর রহমান পান ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।
মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ এবং প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। লাঙ্গল, মই, টেলিভিশন, হাতপাখা, কলস ও জাহাজ প্রতীকের ছয় প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৪ আসন
ছয়জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ধানের শীষ প্রতীকের ডা. ইকরামুল বারী টিপু ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুর রাকিব পান ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।
মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ এবং প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। লাঙ্গল, হাতপাখা, কাস্তে ও কলস প্রতীকের চার প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৫ আসন
পাঁচজন প্রার্থীর এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের জাহিদুল ইসলাম ধলু ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পান ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।
মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ এবং প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। কাস্তে, হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের তিন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৬ আসন
পাঁচজন প্রার্থীর এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের খবিরুল ইসলাম পান ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।
মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৬ এবং প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। মোটরসাইকেল, হাতপাখা ও হাতি প্রতীকের তিন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ছয়টি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী জামানত হারাতে যাচ্ছেন, যা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে