সাতক্ষীরায় ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, চার আসনেই জামায়াতের জয়
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত ৮ ভাগের ১ ভাগ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এ হিসাবে সাতক্ষীরার চারটি আসনে মাত্র ৯ জন প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)
এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৯৭৬ ভোট। বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি তিন প্রার্থী এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেননি।
জামানত হারিয়েছেন— জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল প্রতীক, ২ হাজার ৫৪৪ ভোট), শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা, ২ হাজার ৭১ ভোট) এবং মো. ইয়ারুল ইসলাম (ডাব, ৭১৫ ভোট)।
সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা)
এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৯ হাজার ৪০৭ ভোট। জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারিয়েছেন— মো. আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল, ৪ হাজার ২৭৮ ভোট), মুফতী রবীউল ইসলাম (হাতপাখা, ১ হাজার ৯৭৬ ভোট) এবং মো. ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ি, ৩১৭ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ)
এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৪ হাজার ৫৬৩ ভোট। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হন।
এ আসনে জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম ফুটবল প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আলোচনায় আসেন। তিনি বিএনপি প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলেন এবং সগৌরবে জামানত রক্ষা করেন।
জামানত হারিয়েছেন— মো. ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা, ২ হাজার ৪৯৭ ভোট), মো. আলিপ হোসেন (লাঙ্গল, ৭২২ ভোট) এবং রুবেল হোসেন (রকেট, ৫৮৩ ভোট)।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)
এ আসনে চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত রক্ষা করেছেন। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ভোট প্রয়োজন ছিল ২৫ হাজার ২৪৫।
জামানত হারিয়েছেন— এস এম মোস্তফা আল মামুন (হাতপাখা, ৪ হাজার ৯০২ ভোট) এবং মো. আব্দুর রশীদ (লাঙ্গল, ১ হাজার ১৪২ ভোট)।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আক্তার জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে