রংপুরের ৬ আসনে জামায়াত–এনসিপির জয়, জাপার ভরাডুবি
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এবং ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার চরম ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির।
ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রায় চার দশক ধরে ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রভাব কার্যত ভেঙে পড়েছে।
জিএম কাদের রংপুর ত্যাগ
রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। নির্বাচনের দিন তিনি ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার দুপুরে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রংপুর ত্যাগ করেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর পর্যন্ত তাকে বিদায় জানান দলের জেলা ও মহানগর নেতারা।
রংপুর ত্যাগের আগে সকাল ১১টায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হলেও পরে তা স্থগিত করা হয় বলে দলীয় নেতারা জানান।
আসনভিত্তিক ফলাফল
রংপুর-১:
জামায়াত প্রার্থী রায়হান সিরাজী ১,৪৭,২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন পান ৬৯,১৩১ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসনে দলটির কোনো প্রার্থী ছিল না।
রংপুর-২:
জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ১,৩৫,৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পান ৮০,৫৩৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনি সুল ইসলাম মণ্ডল তৃতীয় হন (৩৩,৯৩০ ভোট)।
রংপুর-৩ (সদর):
জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১,৭৮,০৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পান ৮৫,৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৪৩,৭৯০ ভোট।
রংপুর-৪:
এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন ১,৪৯,৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১,৪০,৫৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির আবু নাসের মাহবুবার রহমান পান ৩৩,৬৬৪ ভোট।
রংপুর-৫:
জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১,৭৬,৪১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী পান ১,১৫,১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর পান ১৬,৪৯০ ভোট।
রংপুর-৬:
জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন ১,২০,১২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পান ১,১৭,৭০৩ ভোট। জাতীয় পার্টির নুর আলম যাদু মাত্র ১,২৮৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
প্রতিক্রিয়া
রংপুর-৩ আসনের বিজয়ী মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, “দীর্ঘদিন রংপুরের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।”
রংপুর-৪ আসনের বিজয়ী আক্তার হোসেন বলেন, “ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।”
তবে জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের কোনো শীর্ষ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল রংপুরের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে