ভোটে জিতেই নিষিদ্ধ কার্যক্রম থাকা দলীয় কার্যালয় খুলে দিলেন বিএনপি নেতা
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ভোটে জয়লাভের পর নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন তিনি। এ সময় দলটির নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন বিএনপির এ নেতা।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট ভিডিওতে বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান প্রথমেই যে কাজটি করেছেন, তা হলো তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় তালামুক্ত করা।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সেসব মামলা থেকে রক্ষার জন্য তিনি আবু দাউদ প্রধানের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান স্বপন বলেন, বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে চাইলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবেন। দলমত নির্বিশেষে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে আবু দাউদ প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা দেওয়া ছিল—এ তথ্য আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর তাদের বিজয় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের শক্তি এক হয়ে জনগণের ম্যান্ডেট দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক; অন্যায় না করলে কেউ যেন তাদের হয়রানি না করে—এ বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকবেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন দাবি করেন, জামায়াতের লোকজন কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। শুক্রবার আবু দাউদ প্রধানসহ স্থানীয় লোকজন নিয়ে অফিসটি খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে বসবেন, তবে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম আপাতত পরিচালিত হবে না।
তবে বিষয়টি দলের সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন আবু দাউদ প্রধান। তিনি বলেন, এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উপজেলা বিএনপির সভাপতির এ সিদ্ধান্তের দায় তাকেই বহন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস শেখ বলেন, ঘটনাটি তাদের হতবাক করেছে। সাংগঠনিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।
১৪৩ বার পড়া হয়েছে