সর্বশেষ

জাতীয়দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে দুই যুগ পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি
২৯৯টি আসনের ফলাফলের মধ্যে বিএনপি ২১০টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৭টি, এনসিপি ৬টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি,  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং ১৪টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী
সারাদেশবগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী তারেক রহমান
বিএনপি ক্যাডারভিত্তিক নয়, গণভিত্তিক দল: মির্জা ফখরুল
কক্সবাজারে চারটি আসনেই বিএনপির জয়, বড় ব্যবধানে জয় পেলেন সালাহউদ্দিন আহমদ
রংপুরে ৬ আসনের ৫টিতে জামায়াত, ১টিতে এনসিপির বিজয়
কুষ্টিয়া- ৪ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আফজাল হোসেন বিজয়ী
বান্দরবান-৩০০ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর বড় জয়
বাগেরহাট-৩ আসনে ধানের শীষের লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের বিজয়
টাঙ্গাইলের তিন আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বেসরকারি বিজয় ঘোষণা
জয়পুরহাটের দুই আসনে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীর জয়
লালমনিরহাটে দুই আসনে ধানের শীষের জয়, এক আসনে এগিয়ে বিএনপি
খুলনা-৫ আসনে হেরে গেলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার
ভোলা-১ আসনে পার্থর জয়, বড় ব্যবধানে হারলেন জামায়াত প্রার্থী
সাতক্ষীরা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার জি এম নজরুল ইসলাম জয়
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের মোস্তাফিজুর রহমান বেসরকারি জয়
ঝিনাইদহ -১ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির আসাদুজ্জামান জয়ী
আন্তর্জাতিকবেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই চীনা নৌযান আটক করেছে জাপান
খেলাবার্সেলোনার জালে আতলেতিকোর ৪ গোলের ‘নীরব বিপ্লব’
মতামত

সুপার–মেজরিটি বিএনপি বনাম বিরোধী দল

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২১৩টির মতো আসন নিয়ে বিএনপি কার্যত দুই–তৃতীয়াংশের বেশি সুপার–মেজরিটি অর্জন করেছে; অন্যদিকে জামায়াতসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্রদের হাতে আছে মোটামুটি ৭০–৮০টির মতো আসন।

এই গঠন সংসদে একদিকে অভূতপূর্ব শক্তিশালী সরকার, অন্যদিকে সংখ্যায় দুর্বল কিন্তু সম্ভাবনাময় বিরোধী কণ্ঠের এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন এখন একটাই—আগামী পাঁচ বছরে এই ম্যাথ সংসদের ভেতরে ক্ষমতার ডাইনামিককে কোন দিকে ঠেলে দিবে।

বিএনপির হাতে ২১৩ আসনের মতো সুপার–মেজরিটি মানে, সরকার গঠন থেকে শুরু করে সাধারণ আইন, বাজেট, আস্থা–অনাস্থা কিংবা স্পিকার নির্বাচন—সব ভোটেই বিএনপির নিজস্ব ককাসই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করতে পারবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই–তৃতীয়াংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে সমর্থন থাকায় দলটি চাইলে সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচনব্যবস্থা পুনর্গঠন বা বিচারবিভাগীয় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনও বিরোধী দলকে “ভোটে” না নিয়েই পাস করাতে সক্ষম। তবে জুলাই চার্টার ও চলমান কনসেনসাস–রাজনীতির ফলে বড় পরিবর্তনের আগে BNP–কে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী শিবিরকে অনবোর্ড নিতে হবে—অন্তত জনমত ও আন্তর্জাতিক বৈধতার জন্য।

প্রতিপক্ষ শিবির এখন ছড়িয়ে আছে কয়েকটি দলে ও কয়েকজন প্রভাবশালী স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে; সংখ্যার হিসেবে তারা “ব্লকিং মাইনরিটি” নয়, অর্থাৎ সংসদ ফ্লোরে কোনো বিল আটকে দেওয়ার মতো ভোট তাদের হাতে নেই, যদি না বিএনপির ভেতরে বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দেয়। তবু ৭০–৮০ জন এমপির একটি ককাস চাইলে প্রতিটি বিতর্কে ধারালো বক্তৃতা, পয়েন্ট অব অর্ডার, ওয়াকআউট, কমিটিতে ডিসেন্ট নোট, মিডিয়া–সাভি কৌশল—এসবের মাধ্যমে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানকে দৃশ্যমান করতে পারবে। জুলাই চার্টার অনুযায়ী যেসব সাংবিধানিক সংস্থা ও কমিশনে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব বা পরামর্শ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে তারা নীতি–নির্ধারণের টেবিলেও কিছু প্রভাব ধরে রাখতে পারে।

সুপার–মেজরিটি নিয়ে বিএনপি চাইলে খুব কম সেশন, স্বল্প সময়ের বিতর্ক ও দ্রুত ভোটের মাধ্যমে একের পর এক বিল পাস করাতে পারে—এতে সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে সচল থাকলেও বাস্তবে তা “রাবার–স্ট্যাম্প” আইনসভায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল সংসদ ফ্লোরের বদলে রাস্তায়, টকশোতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের লড়াই সরিয়ে নিতে পারে, যা আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের মান–প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ডেকে আনবে। উল্টোভাবে যদি সরকার স্ট্যান্ডিং কমিটি শক্তিশালী করে, গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো আগে দীর্ঘ শুনানিতে পাঠায় এবং বিরোধী দলকে সংশোধনী–প্রস্তাব ও রিপোর্টে দৃশ্যমান ভূমিকা দেয়, তাহলে একই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকেও সংসদ অনেক বেশি প্রাণবন্ত, বিতর্কমুখর ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।

আগামী পাঁচ বছরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি এই সুপার–মেজরিটি ব্যবহার করবে কড়া দলীয় নিয়ন্ত্রণ আর “ম্যানেজড” বিরোধিতা তৈরি করতে, নাকি বাস্তব অংশীদারিত্বের জায়গা খুলে দেবে। কড়া কনফ্রন্টেশন বেছে নিলে বিরোধী দল সংসদ বয়কট, সড়ক–কেন্দ্রিক আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মহলে লবিং—এসবের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে, যা আবার সরকারের জন্য স্থিতিশীলতা–ঝুঁকি ডেকে আনবে। বিপরীতে, নির্বাচনব্যবস্থা–সংস্কার, পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কার, মানবাধিকার ও বিকেন্দ্রীকরণ–জাতীয় এজেন্ডাগুলোর ক্ষেত্রে BNP যদি বিরোধী দলকে আলোচনার পার্টনার করে, তাহলে সংখ্যায় দুর্বল হলেও বিরোধী দল নিজেকে “কনস্ট্রাকটিভ অপোজিশন” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে; আর সরকারও সুপার–মেজরিটি হওয়া সত্ত্বেও “ইনক্লুসিভ” শাসনের ইমেজ পাবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সংসদের পাওয়ার ডাইনামিক দুই প্রান্তের মধ্যে দুলতে থাকবে—একদিকে সংখ্যার অহংকারে একক সিদ্ধান্তের প্রলোভন, অন্যদিকে অংশগ্রহণমূলক ও কনসেনসাস–ভিত্তিক গণতন্ত্র গড়ার প্রতিশ্রুতি। বিএনপি যদি কেবল ২১৩–এর শক্তিতে ভর করে কঠোর দলীয় শাসন আর দ্রুত আইন–প্রণয়নের পথে হাঁটে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে সংসদ কার্যত একদলীয় মেগাফোনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। কিন্তু একই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে যদি তারা ব্যবহারের বদলে “গ্যারান্টি” হিসেবে দেখে—মানে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, আর নীতি নির্ধারণে বিরোধী দল ও সিভিল সোসাইটিকে বেশি যুক্ত করে—তাহলে এই সংসদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে “সুপার–মেজরিটি সংসদ, কিন্তু কনসেনসাস–ড্রিভেন রিফর্ম–হাউস” হিসেবে একটি ব্যতিক্রম উদাহরণও হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক

১৬০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন