ফেনীতে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে মৌখিক তালাক, স্বামী লীগ নেতা পলাতক
বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে মৌখিক তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। ঘটনার পর জনতার ক্ষোভের মুখে তিনি পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে কাওসার তার স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন। তবে প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন জহুরা। ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে স্বামীসহ পরিবারের জন্য নাস্তা প্রস্তুত করেন।
পরে বিকেলে কাওসার বাইরে থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিয়েছেন। মাগরিবের সময় তিনি এ বিষয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে জহুরা ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় তাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্ত্রীকে ঘরে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে কাওসারকে আটক করে। পরে স্ত্রীকে দেওয়া তালাক প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিন সন্তান নিয়ে জহুরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশও হয়েছে। কয়েকজন গ্রামবাসীর দাবি, কাওসার অতীতে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে