রাত পোহালেই ভোট মহারণ: ১২ কোটি ভোটারের গণতান্ত্রিক মহাসমর
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাত পোহালেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের পর এটি প্রথম সংসদ নির্বাচন।
দেশে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সারাদেশে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে প্রচারণা শেষ করেছেন এবং ভোটারদের কাছে সমর্থন চেয়েছেন। দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহও দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচনে মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও অংশগ্রহণ করছেন। মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি (ধানের শীষ) - ২৯১ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা)। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ১৯৮ জন এবং এনসিপি (শাপলা কলি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম দ্বারা টহল চলবে এবং তৃতীয় স্তরে বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৩৯১ জন স্ট্যাটিক ফোর্সে থাকবেন, বাকিরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনী সহায়তায় আরও ২৯ হাজার ৭৯৮ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৮ হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্র সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ কেন্দ্রের জন্য স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। এর মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুইজন নিহত ও ৪৮৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া জানুয়ারির বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার ফলে আরও কয়েকজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
প্রবাসী, সরকারি কর্মচারী, ভোটকর্মী এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই ১১ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন সরকারি কর্মকর্তা, ভোটকর্মী ও বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।
বৃহস্পতিবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত রয়েছে।
সব দৃষ্টি এখন ভোটকেন্দ্র এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের দিকে। রাত পোহালেই শুরু হবে গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়া, যা দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে