তালা-কলারোয়ায় জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে তালা-কলারোয়ায় কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আগামী পাঁচ বছরে তালা পৌরসভা এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলা করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হবে। এছাড়া তিনি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকায় রূপান্তরের উপরও জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “তালা-কলারোয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো কার্পেটিং করে মেরামত করা হবে।”
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ আরও জানিয়েছেন, জামায়াত ইসলামী যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে এবং সংসদের কয়েকটি মন্ত্রণালয় নারী মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচালিত হবে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বলফিল্ডে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণে শিশু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হিরন্ময় মন্ডলকে আঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “আমরা এলাকার হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্যও সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব। আপনারা যেমন মায়ের কোলে নিরাপদ থাকেন, তেমনই তালা-কলারোয়াতেও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।”
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, তাদের সম্পদ লুট হয়েছে। এই পরিস্থিতি আর চলতে দেয়া হবে না। পাটকেলঘাটা বাজার আধুনিকীকরণ এবং তালা ও কলারোয়ার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, পাটকেলঘাটাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা এবং সেখানে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্যও তিনি ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে এলাকায় কালো টাকা ছড়ানো ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি ভোটারদের বলেন, এই সন্ত্রাস প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় ‘দুর্গ’ তৈরি করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
তালা-কলারোয়ায় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিরন্ময়কে আঘাত করার ঘটনায় প্রশাসনের তৎপরতা ও নির্বাচনের দুইদিন আগে সম্ভাব্য সন্ত্রাস নিয়ে সতর্ক থাকতেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভোটাররা নিজস্ব ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে জনগণ নিজেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তিনি ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংশোধনের জন্য ‘হা’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ইদ্রিস আলী। বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা শিবির সভাপতি জোবায়ের হোসেন, নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি গাজী সুজায়েত আলী, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গণি, রাবি শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ইমামুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আফতাব উদ্দীন, মাওলানা ওমর আলী, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান, সাবেক জেলা সভাপতি ও পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, প্রসাদ সরকার, পাটকেলঘাটা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ শেখ। জনসভায় বিপুল সংখ্যক জামায়াতের মহিলা কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
১০৭ বার পড়া হয়েছে