বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ: ভোটাধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের অধিকার রক্ষায় দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ভোট যাতে কেউ কারচুপি করে কেড়ে নিতে না পারে কিংবা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফল পাল্টে দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
নির্বাচনের তিন দিন আগে আজ রোববার রাজধানীর মিরপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলামের সমর্থনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের দিনে যেন কোনোভাবেই জনগণের রায় বাক্সে বন্দী হয়ে না যায়, সে দায়িত্ব ভোটারদেরই নিতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দল হিসেবে তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। আল্লাহ মানুষকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার মধ্যেই বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ওই গোষ্ঠীর লোকজন নকল সিল তৈরির সময় ধরা পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, অতীতেও একই মহল দেশের স্বাধীনতার সময় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনের সময়ও তারা জনগণকে পাশে না রেখে স্বৈরাচারের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়—এমন নজির ইতিহাসে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে কী ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও ধারণা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার চেয়ে জনগণের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা ও কর্মসূচিই বেশি জরুরি। তাঁর দাবি, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম এমন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বর্তমানে একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।
গত ১৬ বছরে ‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা উন্নয়ন’ হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষেরই লাভ হয়েছে, যেখানে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে।
ঢাকা-১৪ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত প্রার্থী সানজিদা ইসলামের দিকে নজর রাখতে হবে এবং ভোটের দিন থেকে তাঁর দায়িত্ব জনগণের। বিএনপি এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বিকেলে পল্লবীর লাল মাঠে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের নির্বাচনী পথসভায়ও যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বিএনপির প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের মানুষের জীবনমান ও ভাগ্যের পরিবর্তন।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও ঢাকায় একাধিক ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান। পাশাপাশি ঢাকা-১৬ ও ১৭ আসনের আবাসনসংকটে থাকা মানুষের জন্য আইনি ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এলাকার প্রার্থী আমিনুল হকের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকার ওই অঞ্চলে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাস দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহার্য।
১১৭ বার পড়া হয়েছে