ভোলা-২ আসনে মোঃ ফজলুল করিমের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ ফজলুল করিম আজ বিকাল সাড়ে চারটায় বোরহানউদ্দিন উত্তর বাসস্ট্যান্ডে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
ইশতেহার ঘোষণার পর উত্তর বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে মোঃ ফজলুল করিম বলেন, “ইনসাফ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার ভোলা-২ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণে সম্ভাবনাময় এই দ্বীপাঞ্চল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সৎ নেতৃত্ব, আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারে প্রার্থী মোঃ ফজলুল করিম ভোলা–বরিশাল সড়ক যোগাযোগের জন্য ভোলা সেতু নির্মাণে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নের জন্য ইলিশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে রূপান্তর, জেলেদের জন্য স্থায়ী ভাতা ও বিকল্প কর্মসংস্থান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সুদমুক্ত কৃষিঋণ ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন গ্যাস ও বিদ্যুৎভিত্তিক ইকোনমিক জোন, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পকারখানা এবং যুবকদের জন্য আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
শিক্ষা খাতে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভোলা দ্বীপে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি মেডিকেল কলেজ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা এবং ভাসমান মেডিকেল সার্ভিস চালুর অঙ্গীকার করেছেন।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও চর দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড চালু করে ঘুষবিহীন সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয় সংরক্ষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের কথাও উল্লেখ করেছেন।
পরিবেশ ও দ্বীপ উন্নয়নের অংশ হিসেবে নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, এবং জলবায়ু সহনশীল বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। শেষেই তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, খিদমতের রাজনীতি করতে চাই। ইনসাফের শাসন ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোট ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা।
১০৫ বার পড়া হয়েছে