চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটের অঙ্ক বদলেছে: সাবেক মিত্র বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এই জেলায় এবারের ভোটের চিত্র অন্য সময়ের তুলনায় আলাদা।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই এই দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে। মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মূল লড়াই এখন ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক মিত্রদের এই বৈরী অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরাবরই বড় দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। বিএনপির এখানে শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও জামায়াতও নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে সাফল্যের অভিজ্ঞতা দলটিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের ড. কেরামত আলীর বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের ড. মো. মিজানুর রহমান চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামকে। আর সদর আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩-এ জামায়াত প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে বিএনপির হারুনুর রশীদের লড়াই বেশ জমে উঠেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিও উত্তপ্ত। জামায়াত প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের তোরণ ভাঙচুর, কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন তারা। জামায়াত প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের সমর্থন তাদের দিকে থাকায় প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসামূলক রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন ড. মিজানুর রহমানও।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি, জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আস্থা ও সংগঠিত ভোটব্যাংকের জোরেই তারা বিজয়ী হবেন। বিএনপির প্রার্থীরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন। ভোটের এই উত্তেজনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভিন্ন। তারা চান এমন জনপ্রতিনিধি, যিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি ভোটারদের দাবি, প্রশাসনের নিরপেক্ষতায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন।
সবশেষে প্রশ্ন একটাই—আম্রকাননের এই জনপদে কার কৌশল কাজে লাগবে? বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রভাব বজায় থাকবে, নাকি জামায়াত গড়বে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত।
১২৯ বার পড়া হয়েছে