আজ থেকে ২০২৬ সালের হজ ভিসা ইস্যু কার্যক্রম শুরু
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য আজ থেকে ভিসা ইস্যু কার্যক্রম শুরু হবে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হজ কার্যক্রমে যুক্ত দেশ ও দপ্তরগুলোর জন্য একটি সমন্বিত পরিচালন ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমনের বহু আগেই আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা–সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজ প্রস্তুতি শুরু হয় গত বছরের ৮ জুন (১২ জিলহজ ১৪৪৬ হিজরি) থেকে। সে সময় বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনার নথি পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে সফর মাসের শুরুতে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর তাঁবু ও অবকাঠামো–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়, যাতে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরির ১ রবিউল আউয়াল থেকে আবাসন ও মূল সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক চুক্তি কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষ করা, কার্যক্রমের চূড়ান্ত তথ্য নির্ধারণ এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুমাদাল আউয়াল মাসে বড় পরিসরে সেবা চুক্তি স্বাক্ষর এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে একটি হজ সেবা প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবাসংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া শুরু হবে। মার্চ মাসে ভিসা কার্যক্রম চূড়ান্ত করা এবং হজযাত্রীদের আগমন-পূর্ব প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে প্রথম দফার হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়েই হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, আগাম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামো ও সেবাগুলো প্রস্তুত রাখা গেলে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হজ আয়োজন নিশ্চিত করা সম্ভব।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজ কার্যক্রম দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত শর্ত পূরণ করেছে।
আর্থিক লেনদেন ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ালেট ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
১২২ বার পড়া হয়েছে