এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কন্যারা: নতুন নথিতে বাড়ছে প্রশ্ন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর ও তাঁর পরিবারকে ঘিরে জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ই–মেইল ও নথিতে ইঙ্গিত মিলেছে, যৌন অপরাধে দণ্ডিত মার্কিন ধনকুবের এপস্টিনের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনির যোগাযোগ পূর্বধারণার চেয়েও ঘনিষ্ঠ ছিল।
নথি অনুযায়ী, সাজা ভোগের পর মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মায়ামিতে এপস্টিনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন দুই রাজকুমারী। সে সময় ইউজিনির বয়স ছিল ১৯ এবং বিয়াট্রিচের ২১ বছর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের ‘দ্য গার্লস’ বলে উল্লেখ করা হয়। আরও কিছু ই–মেইলে দেখা যায়, পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করানো বা বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানোর ক্ষেত্রেও তাঁদের সম্পৃক্ততা ছিল।
বর্তমানে বিয়াট্রিচের বয়স ৩৭ এবং ইউজিনির ৩৫ বছর। নতুন নথিগুলো তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। রাজকীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষক রিচার্ড পামার বলেন, ওই মধ্যাহ্নভোজ ও যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
তবে রাজপরিবার–বিষয়ক সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারফির মতে, ই–মেইলগুলো ‘অত্যন্ত অস্বস্তিকর’ হলেও রাজকুমারীদের প্রতি এখনো জনসাধারণের সহানুভূতি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সে সময় যদি কোনো সতর্কবার্তা না থাকে, তবে পারিবারিক আয়োজনে তাঁদের অংশগ্রহণ বোঝা যায়।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, এপস্টিন সম্ভবত ইয়র্ক পরিবারের ভ্রমণসংক্রান্ত ব্যয় বহন করেছিলেন—একটি ই–মেইলে ‘সব টিকিটের মোট দাম’ হিসেবে ১৪ হাজার ৮০ ডলারের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, সাবেক ডাচেস সারা ফার্গুসনকে এপস্টিন একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন, যেন তাঁর কন্যারা এপস্টিন–ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এমনকি একবার বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানোর অনুরোধও করা হয়েছিল বলে নথিতে দাবি।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রাজপরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে নাম থাকলেই কেউ অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বর্তমানে দুই বোন রাজপরিবারের হয়ে সরাসরি কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। তাঁরা বিবাহিত, নিজ নিজ কর্মজীবন ও সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত। ইউজিনি ‘অ্যান্টি–স্ল্যাভারি কালেক্টিভ’ নামে একটি দাতব্য সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থাটির অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে বিয়াট্রিচ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে নাম বারবার আসায় দুই রাজকুমারীর জন্য এই অধ্যায় থেকে নিজেদের আলাদা রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় জনসমক্ষে বাবা–মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাই তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে