থাইল্যান্ডে আজ নির্বাচন: সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’ কি ভাঙতে পারবে ক্ষমতাসীন চক্র?
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে সংস্কারপন্থী বিরোধী দল পিপলস পার্টির ব্যাপক জনসমর্থন দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন জিতলেই যে সরকার গঠন সম্ভব—থাইল্যান্ডের বাস্তবতায় বিষয়টি মোটেও নিশ্চিত নয়।
নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডের শহর ও গ্রামজুড়ে পিপলস পার্টির কমলা রঙের প্রচার বাস ও জনসভা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘ভবিষ্যৎকে বেছে নিন’ স্লোগানে আয়োজিত প্রচারণায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলটির প্রার্থীদের প্রচার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
পিপলস পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত, সাবেক ফিউচার ফরওয়ার্ড পার্টির নেতা থানাথর্ন জুয়াংরুংরুয়ংকিট এবং সাবেক মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির নেতা পিতা লিমজারোয়েনরাতসহ শীর্ষ নেতারা নির্বাচনের আগের দিন বড় সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে অভিবাদন জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিপলস পার্টি মূলত থাইল্যান্ডের প্রগতিশীল ‘কমলা আন্দোলনের’ ধারাবাহিক রূপ। এর আগের সংস্করণগুলো—ফিউচার ফরওয়ার্ড ও মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি—নির্বাচনে সাফল্য পেলেও আদালতের রায়ে বিলুপ্ত হয়। ২০২৩ সালের নির্বাচনে মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সামরিক বাহিনী-নিয়ন্ত্রিত সিনেটের বাধায় সরকার গঠন করতে পারেনি।
‘ব্রেকিং দ্য সাইকেল’ প্রামাণ্যচিত্রের সহপরিচালক থানক্রিত দুয়াংমানিপর্ন বলেন, বিরোধীদের জনসমর্থন বাড়লেও রাজতন্ত্রপন্থী রক্ষণশীল গোষ্ঠীর ক্ষমতা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর মতে, বিপুল ভোট পেলে হয়তো পিপলস পার্টি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলোকে সমঝোতায় আনতে পারে।
প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশ থাইল্যান্ড গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। অতীতে একাধিকবার সংস্কারপন্থী দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হলেও আদালতের রায়, সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা প্রভাবশালী অভিজাতদের হস্তক্ষেপে ক্ষমতা হারিয়েছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, পিপলস পার্টি আবারও সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাথাফং রুয়েংপানিয়াউতের প্রতি ২৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। তবে সরকার গঠনের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হতে হলে ২৫১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। পিপলস পার্টি এককভাবে সে সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারলে, রক্ষণশীল শক্তি ও অন্যান্য দলের সমর্থনে অনুতিন চার্নভিরাকুলই পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারেন।
এদিকে পিপলস পার্টির তরুণ আইনপ্রণেতা রুকচানোক শ্রিনর্ক বলেন, তাঁদের দল ভোট কেনাবেচার রাজনীতির বাইরে থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাঁর ভাষায়, জনগণ যখন বুঝতে পারবে যে রাজনীতিতে তাদের কণ্ঠস্বরের মূল্য আছে, তখনই গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।
তবে থম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্রিনিয়া থায়ওয়ানারুমিতকুল মনে করেন, গ্রামাঞ্চলে এখনো ‘টাকার রাজনীতি’ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, পিপলস পার্টির সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে তখনই, যখন তারা অন্তত ২০০ আসনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে।
সব মিলিয়ে আজকের নির্বাচন থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনবে কি না, নাকি পুরোনো চক্রই আবারও টিকে থাকবে—সে প্রশ্নের উত্তর দেবে আজকের ভোট।
১২৪ বার পড়া হয়েছে