নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ কৌশলগত-নির্বাচন কমিশনার মাসউদ
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বাকযুদ্ধ চলছে, তা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বলার কিছু নেই।
শনিবার বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সারা দেশে এখন ভোটের আবহ চলছে। তবে আমরা কোথাও নির্বাচন কারচুপির কোনো কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করছি না।” তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাঠপর্যায়ে তাদের সেই মনোভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো রয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ড ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা তাঁকে অভিভূত করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “একজন রাজনৈতিক নেতার নিজ বাড়িতে যাওয়ার অধিকার তাঁর মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার বন্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে শুধুমাত্র নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ রাখার স্বার্থে কমিশন কিছু ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেছে।”
অপরদিকে জামায়াতের আমীরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর আগে লাগানো পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলে দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সব পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়। একইভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি বাতিল করেন। এসব ঘটনা ভোটের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ও বড় ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এদিকে মতবিনিময় সভায় ক্যামেরাপার্সনদের পক্ষ থেকে একটি দাবি উত্থাপন করা হয়। রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকুল বলেন, নির্বাচনী সংবাদ কভারেজের জন্য যে অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ক্যামেরাপার্সনদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাদের জন্য অবমাননাকর। তারা নিজেদের ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন এবং দাবি মানা না হলে নির্বাচন কভারেজ বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্টদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপাতত এ বিষয়ে কমিশনের কিছু করার নেই। পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় রংপুরের ছয়টি আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে