পরকীয়ার অভিযোগে তিন বছরের শিশুকে হত্যা, ২০ দিন পর ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে নিজের তিন বছরের কন্যা সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাড়ির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আটক নারীর নাম সেতু বেগম (২৫)। তিনি গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা নিলারমাঠ গ্রামের প্রবাসী রুবেল শেখের স্ত্রী। নিহত শিশুর নাম ফারিয়া (৩)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুরের সদরপুর থানার বাড়ৈইহাট গ্রামের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে সেতু বেগমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্কের জের ধরে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম তাঁর প্রেমিকের সহায়তায় নিজ কন্যার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি বাড়ির ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পর সেতু বেগম প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান। তবে প্রায় ২০ দিন পর প্রেমিক তাঁকে ছেড়ে চলে গেলে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করে।
সেতু বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার তাঁর স্বামীর বাড়ির ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের নানী পারভিন আক্তার জানান, ঘটনার পর থেকে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মেয়ের স্বীকারোক্তিতে ভয়াবহ ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
প্রতিবেশী সেফালি বেগম বলেন, “ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। শ্বশুর বৃদ্ধ আর শাশুড়ি আগেই মারা গেছেন। এলাকায় কারও সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক ছিল না। নিজের সন্তানকেও সে রেহাই দেয়নি—এ ঘটনায় আমরা দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।”
১২১ বার পড়া হয়েছে