ফরিদপুর নামেই বিভাগ হবে, নদীগুলোকে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে: জামায়াতের আমীর
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগন যদি আমাদের সুযোগ দেয় তাহলে ফরিদপুর নামেই বিভাগ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। বিভাগ নিয়ে অনেক টালবাহানা হয়েছে তার আর হবে না।
এছাড়া ফরিদপুরের নদীগুলো পলি পড়ে ভরে গেছে তা খনন করে নদীগুলোর প্রাণগুলো ফিরিয়ে আনা হবে। বন্ধ পাটকলগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। কথা দিয়ে যাচ্ছি ফরিদপুরের মানুষকে হতাশ করা হবেনা।
যারা বলে বিশ^বিদ্যালয়ের ভোট আর সংসদ ভোট এক না তাদের বলছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগন তা দেখিয়ে দেবে। আমরা এ দেশেটাকে শান্তির দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা হানাহানির রাজনীতি চাইনা। আমরা সুন্দর একটি দেশ গড়তে চাই। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে বিশাল এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে গোটা দেশকে শিল্পাঞ্চলে পরিনত করা। যারা টাকা লুট করে নিয়ে গেছে তাদের টাকা পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনা হবে। সেই টাকা আনার পর কোন নেতা নেত্রীর পকেটে যাবেনা। সেই টাকা দিয়ে আমরা উন্নয়নের কাজ করবো। তিনি বলেন, ইনসাফের ভিত্তিতে কাজ করা হবে। আমি ফরিদপুরবাসীকে কথা দিয়ে যেতে চাই, যদি আপনারা আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেন তাহলে আমরা আপনাদের জন্য সব সময় কাজ করবো। আপনাদের যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা করবো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের মা বোনদের উপর যারা জুলুম নির্যাতন অত্যাচার করে তাদের সতর্ক করে বলছি, অনেক হয়েছে এবার থামুন। আমরা আর কোন জুলুম-অন্যায় মেনে নেবোনা। আমাদের মায়েরা আমাদের সাথে আছে, তারা আমাদের দাড়িপাল্লায় ভোট দেবার জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। মায়েরা যখন আমাদের ভোট দিতে চাইছে, তখন একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এখন মা-বোনদের লাঞ্ছিত করছে। আমাদের মায়েদের ভয় দেখাবেন না, মায়ের অধিকার ও স্বাধিনতা কেড়ে নিতে দেওয়া হবেনা। দয়া করে মায়েদের সম্মান কেনে নিতে দেবো না।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে দু’টি ভোট। একটি সংসদ আর একটি হ্যা-না ভোট। আপনারা কিসে ভোট দেবেন ? হা ভোট মানে আজাদী আর না ভোট মানে গোলামী। আমরা কোন দলীয় সরকার গঠন করতে চাইনা। আমরা জামায়াতের জয় চাইনা আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। যে দেশে মানুষ নিরাপদে থাকতে পারতে সেরুপ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা আমাদের কষ্ট দেয় তাদের আমরা মাফ করে দিয়েছি। আমাদের উপর যারা অতীতে জুলুম করেছে তাদের উপর আমরা কোন প্রতিশোধ নেবোনা। আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে, যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানী করেছে তাদের প্রতি আমরা একটি ফুলের পাপড়িও ছুড়েনি। আমরা আল্লাহর দরবারে বিচার দিয়ে রেখেছি। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করলে তাদের কাউকেই ছাড়া হবেনা। আমরা পুলিশকে সহযোগীতা করতে চাই, আমরা আর কোন হানাহানি রাজনীতি করতে চাইনা। আমাদের উপর বিগত ১৫ বছর ষ্টিমরোলার চালানো হয়েছে। আমরা শত নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। আমরা কারো উপর কোন জুলুম করেনি। কেউ বলতে পারবেনা জামায়াত কারো উপর কোন জুলুম করেছে। কারন কোরআন আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তাই আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। আমরা আর বস্তা পচা রাজনীতি চাইনা। আমদের যুব সমাজ আর হানাহানি রাজনীতি চায়না। আমরা বাংলাদেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। ইনশাল্লাহ আমরাই বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আমাদের বাংলাদেশ আর খুন গুমের শিকার হতে হবেনা। কোন মা বোনের গায়ে কেউ হাত দিতে পারবেনা। আমাদের বাংলাদেশ হবে সকলের বাংলাদেশ।
এসময় তিনি ১১ দলের জোট প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ভোট দেন, আমাদের প্রার্থীরা আপনাদের পাশে থাকবে। এদেশে আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবেনা। আমরা কোন দলীয় রাজনীতি করতে চাইনা। আমাদের যারা গুপ্ত সুপ্ত বলে তাদের কথার কোন জবাব আমরা দিতে চাইনা। যারা এসব কথা বলে তাদের মাফ করে দিয়েছি। প্রতিশোধ নেয়া আমার কাজ নয়, আমাদের রক্তের সাথে তা জায়না। কারন আমরা বস্তাপচা রাজনীতি করতে চাইনা। জামায়াতের আমীর এসময় ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের দলীয় ও জোটপ্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
মাঘ মাসেই যদি মাথা গরম হয় তাহলে চৈত্র মাসে কি হবে। মাথা গরম করে লাভ নেই। জামায়াত সেই পুরনো রাজনীতিতে নেই। আমরা যুবসমাজকে নিয়ে নতুন রাজনীতি করতে চাই।
জনসভায় ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বদরউদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় জেলা নেতৃবৃন্দ উপ¯ি’ত ছিলেন। এরআগে সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে বিশাল এক সমাবেশে বক্তৃতা করেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান। ফরিদপুর ও বোয়ালমারী উপজেলার জনসভাগুলোতে লাখো মানুষের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো।
১২৩ বার পড়া হয়েছে