জয়পুরহাট-১ আসনে টিউশনির টাকায় নির্বাচনী লড়াইয়ে নারী প্রার্থী
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসন (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) থেকে টিউশনির উপার্জনের টাকায় নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন একটি রাজনৈতিক দলের একমাত্র নারী প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান। তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল—বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক কাঁচি।
এই আসনে আরেকজন নারী প্রার্থী থাকলেও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে তৌফিকা দেওয়ানই একমাত্র নারী প্রার্থী। জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, আদর্শ ও নীতির লড়াই হিসেবেই তিনি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান।
নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষকদের উন্নয়নে আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ভোটের মাঠে নামার কথা জানান তৌফিকা দেওয়ান। শিক্ষা জীবন থেকেই তিনি বাম ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে রসায়নে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা এই তরুণীর বয়স ৩১ বছর।
হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা মূলত শিক্ষার্থী পড়িয়ে উপার্জিত। তাঁর হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের এবং আসবাবপত্র রয়েছে ১০ হাজার টাকার। অর্জনকালীন মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে তৌফিকা দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের দল একটি আন্দোলনভিত্তিক দল। টিউশনির আয় ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, দলীয় সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা আমাকে সহযোগিতা করছেন। আমরা শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের দল। সাধারণ মানুষের সাধ্যমতো সহযোগিতায় আমরা নির্বাচনী ব্যয় চালাচ্ছি।’
২০১২ সালে ইডেন কলেজের রসায়ন বিভাগে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ওই সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তীতে ২০১৪ সাল থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সবসময় নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়। এবারের নির্বাচনে দলটি ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৩০ শতাংশ। যদিও রাজনৈতিক ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রতিটি দলের প্রার্থীর অন্তত ৫ শতাংশ নারী রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে বড় দলগুলো তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৌফিকা দেওয়ানের দাবি, দেশের নির্বাচনে অর্থ ও প্রভাবের রাজনীতি প্রাধান্য পাচ্ছে। জয়পুরহাট-১ আসনেও সম্পদশালী প্রার্থীদের সঙ্গে তাঁকে লড়তে হচ্ছে। তবে তিনি এটিকে আদর্শের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘মানুষ সচেতন হলে এই লড়াইয়ে আমরাই জয়ী হবো।’
জাঁকজমক ছাড়াই অত্যন্ত সাধারণভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। কখনো বাবার পুরোনো মোটরসাইকেলে, কখনো রিকশাভ্যানে চড়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।
জয়পুরহাট-১ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান, জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, বাসদের ওয়াজেদ পারভেজ, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে তৌফিকা দেওয়ান এবং স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী সাবেকুন নাহার।
১২০ বার পড়া হয়েছে