বাংলাদেশের পাশে থেকে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানালেন শাহবাজ
বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। খেলার মাঠে রাজনীতির প্রভাবের অভিযোগ তুলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে থাকার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত রাখা উচিত। তাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়ে পাকিস্তান স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশকে সমর্থন করাই এ মুহূর্তে সঠিক পদক্ষেপ।
এর আগে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশকে ২০২৬ সালের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ সরকার ভারতের মাটিতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এ সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দেয়।
যদিও সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহেই জানানো হয়েছিল, তবে এর পেছনের কারণ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তুলে ধরল পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকেও আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও রোববার পাকিস্তান সরকারের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, সে ম্যাচে অংশ নেবে না পাকিস্তান দল। পরে আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের’ কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এদিকে, ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ। ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি সেটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়ায় দল পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ আমলে নেয়নি।
পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিও আইসিসির সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা ইস্যু বিবেচনা করা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি, যা স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ। তিনি এটিকে বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় আচরণ বলেও মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে