লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ সিল উদ্ধার: জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ীর নামে মামলা
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা ও একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জেলা সদর থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি ৪০ বছর বয়সী সোহেল রানা। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের মালিক। পুলিশ গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের জন্য অবৈধভাবে রাখা ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোন জব্দ করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অপর আসামি ৩৪ বছর বয়সী সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শাহজাহানের ছেলে এবং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ হোসেন সোহেল রানার দোকানে সিল তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। এছাড়া তার সঙ্গে জামায়াতের লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থীর ছবির প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঘটনার পর সৌরভ হোসেনের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ওকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।’
বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী। সিল তৈরি করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রশাসনকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জাল ভোট ও জালিয়াতি রোধ করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা তাদের সদস্য নন। প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিএনপি দলটি মিথ্যাচার করছে। তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা বের হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সিল নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। সিলগুলো ভোটের মহড়া বা প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এবং নির্বাচনের দিনে ভোট কারচুপি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, ‘সোহেল রানা জানিয়েছেন, অর্ডার পাওয়ার পরই সিল তৈরি করছিলেন। এখন তদন্ত চলছে, আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’
১৮৩ বার পড়া হয়েছে