ক্রিকেটের আইনে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন এমসিসির
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ক্রিকেটের প্রচলিত আইনে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন আইনে মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও ভাষাগত সংশোধন আনা হয়েছে, যা কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে।
নতুন আইনে টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দিনের শেষ ওভার নিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এতদিন শেষ ওভারে উইকেট পড়লে দিনের খেলা সেখানেই শেষ করে দেওয়া হতো। তবে সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা বন্ধ করা যাবে না। ওভারের বাকি বলগুলো সম্পন্ন করতেই হবে এবং নতুন ব্যাটারকে ক্রিজে এসে সেই বলগুলোর মোকাবিলা করতে হবে। এমসিসির ব্যাখ্যায়, আগে ব্যাটিং দল যে সুবিধা পেত, তা প্রতিযোগিতার ন্যায্যতার পরিপন্থী ছিল এবং ম্যাচের উত্তেজনা কমিয়ে দিত।
বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ‘বানি হপ’ নামে পরিচিত কৌশলে ফিল্ডাররা বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে এসে বল ঠেলে দিয়ে আবার মাঠে ঢুকে ক্যাচ ধরতেন। নতুন আইনে এই কৌশল সীমিত করা হয়েছে। এখন বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে শূন্যে থাকা অবস্থায় ফিল্ডার মাত্র একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। ক্যাচ সম্পন্ন করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে অবস্থান করতে হবে।
ক্লাব ক্রিকেটে ব্যাট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। উইলো কাঠের সংকট ও ব্যাটের উচ্চমূল্য বিবেচনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ‘ল্যামিনেটেড’ বা জোড়া দেওয়া কাঠের ব্যাট (টাইপ ডি) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এমসিসি। আগে এটি কেবল জুনিয়র ক্রিকেটেই বৈধ ছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ব্যাট ব্যবহার করা যাবে না।
হিট উইকেটের সংজ্ঞায়ও সংশোধন আনা হয়েছে। শট খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে কিছুক্ষণ পরে স্টাম্পে পড়ে গেলে ব্যাটার আউট হবেন। তবে ভারসাম্য ফেরানোর সময় ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে তা আউট হিসেবে গণ্য হবে না। ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে আউট, কিন্তু ব্যাট যদি আগে কোনো ফিল্ডার বা উইকেটকিপারকে স্পর্শ করে স্টাম্পে লাগে, তাহলে ব্যাটার নট আউট থাকবেন।
এ ছাড়া ম্যাচের শেষ ইনিংসে অধিনায়কদের ইনিংস ঘোষণা বা ‘ডিক্লেয়ার’ করার সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।
এমসিসি জানিয়েছে, এই আইনগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রযোজ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ১৭৮৭ সাল থেকে চলে আসা ক্রিকেটের আইনগুলো আধুনিক খেলার চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২৪৩ বার পড়া হয়েছে