বিশ্ব জলাভূমি দিবসে মোংলায় মানববন্ধন, শিল্প ও কয়লা দূষণ বন্ধের দাবি
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রামসার কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরবন আজ নানা ধরনের দূষণ ও মানবসৃষ্ট ক্ষতির মুখে বিপর্যস্ত।
কয়লা, শিল্প ও বিষাক্ত বর্জ্যের দূষণ বন্ধসহ জীববৈচিত্র রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে মোংলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবেশবাদীরা।
বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোংলার কাপালিরমেঠ গ্রামে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে স্থানীয় পরিবেশকর্মী, জেলে সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে উন্মুক্তভাবে বিষাক্ত কয়লা পরিবহন ও খালাস কার্যক্রম চলায় নদী ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প, কয়লা, প্লাস্টিক ও বিষ দূষণ বন্ধ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন না করলে সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব নয়।
জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, সুন্দরবনের নদী-খালে মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ না হলে জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
‘ধরা’র নেত্রী কমলা সরকার বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা এখন সংকটে। মাফিয়া চক্র ও মুনাফালোভী ব্যবসার কারণে বন ও নদী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুন্দরবন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট সার্বভৌম রায়, রাকেশ সানা, প্রসেনজিৎ সরদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের হাছিব সরদার, মেহেদী হাসান, আরাফাত আমিন দূর্জয় ও শেখ সাব্বির হাসান দীপ্তসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন বন্ধ, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন রোধ এবং বনসংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বক্তারা সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
১০৭ বার পড়া হয়েছে