খাগড়াছড়িতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিজিবি'র কঠোর প্রস্তুতি
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খাগড়াছড়িতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে বিজিবি মোতায়েন হয়ে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টরের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ আব্দুল মুত্তাকিম। তিনি বলেন, ভীতিহীন ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে বিজিবি বদ্ধপরিকর। এ সময় ৩২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল কামরান কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি সেক্টরের আওতায় ৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে মোট ২৫৪.৩০ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশের মতো খাগড়াছড়িতেও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
সদর দপ্তর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর দিকনির্দেশনায় ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনে মোট ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৫ প্লাটুন, মহালছড়িতে ৩ প্লাটুন, পানছড়িতে ৬ প্লাটুন এবং দীঘিনালা উপজেলায় ৫ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটি আসনের আংশিক অংশ বাঘাইছড়ি উপজেলায় আরও ১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৮টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৬টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কর্ণেল মোহাম্মদ আব্দুল মুত্তাকিম আরও বলেন, বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভোটাররা যেন ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা যে কোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।
এছাড়া এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় বিজিবি বডি ওর্ন ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর, ড্রোন, আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের রায়োট কন্ট্রোল সামগ্রী এবং নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।
নির্বাচনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য সেক্টর সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা করবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সকল প্রার্থী ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।
১৭৫ বার পড়া হয়েছে