সর্বশেষ

জাতীয়যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের হাতে দেশ গড়ার কাজ দেয়া হবে: জামায়াতের আমির
দেশে ৩.০ মাত্রার হালকা ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমল
সারাদেশস্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করেনি, তারাই বিভাজন সৃষ্টি করছে : কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন
টাঙ্গাইলে জমিজমা নিয়ে বিরোধে হামলায় একজন নিহত
জয়পুরহাটে ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রের মরদেহ সরিষার মাঠে উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত আমিরের জনসভা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন
নরসিংদীতে ৭শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু, ভক্ত ও পুণ্যার্থীর ঢল
ঝালকাঠিতে নিজের মাকে হত্যা করল মানসিক ভারসাম্যহীন মাদকাসক্ত ছেলে
কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম হত্যার বিচার দাবিতে মহিপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
১০ম গ্রেড কোটা প্রস্তাবের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মানববন্ধন
দৌলতপুরে বিজিবি'র অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান: নেশাজাতীয় সিরাপ ও ৭টি গরু জব্দ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্যের জামিনপত্রে পালিয়েছে ফাঁসির আসামি, বরখাস্ত ৮
আন্তর্জাতিক১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বড় লাফ, ভরিতে স্বর্ণের দাম বাড়ল ৪ হাজার ৮২ টাকা
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
ফেবু লিখন

স্মৃতি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ 

কাজী আখতার হোসেন
কাজী আখতার হোসেন

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেব। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর দিকে দিকে গণতন্ত্রের জয়ধ্বনি। এরশাদ সরকারের পতনের পর চারিদিকে এক ধরনের প্রশান্তির বাতাস তখনো যেন। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের সরকার ২৭শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করেছেন।

আমি বরিশালের বৃহত্তম উপজেলা বাকেরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মাঠ পর্যায়ে আমার ব্যাচমেটদের বেশিরভাগই তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সভার পর সভা করে যাচ্ছি। নির্বাচনের চাপ আলটিমেটলি যেয়ে পড়ে ইউএনও বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উপরে। সভা করতে যাই বরিশাল এবং তখনকার বিভাগীয় শহর খুলনাতে। বরিশাল তখনও বিভাগ হয়নি। খুলনাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বললেন নানা মহল থেকে প্রস্তাব এসেছিল রিটার্নিং অফিসার কিংবা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ডিসি এবং ইউএনও বাদ দিয়ে অন্যদের দেয়ার জন্য। সভায় নিম্ন সুরে গুঞ্জন শুরু হল। আসলে এই বিষয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা আছে। আমি তো বলি একবার করেই দেখুন না। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছিল নানামুখী উত্তাপ ও বাড়ছিল একটু একটু করে।

একবার দপদপিয়া ফেরিঘাট পার হয়ে ড্রাইভার আলম কেবলমাত্র গাড়ি ছেড়েছে লক্ষ্য করলাম দুইজন প্রবীণ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। জিজ্ঞেস করায় জানতে পারলাম গাড়ি ঘোড়া পাচ্ছেন না তাই তারা বাকেরগঞ্জ যেতে পারছেন না। আমি উনাদের চিনিও না। বললাম ঠিক আছে আমার গাড়ির পিছনে উঠে বসুন। ঘটনা এটুকুই। পরদিন অফিসে যেয়ে জানতে পারলাম কেউ কেউ নাকি বলছেন ইউএনও সাহেব তো অমুক প্রার্থীর লোকজনকে নিয়ে গাড়িতে ঘুরে বেড়ান।

নদী খালের দেশ বরিশাল। আমার বেশিরভাগ ইউনিয়ন গুলো নদীর মধ্যে। একটা নদী শেষ হয়তো আর একটা নদীর মুখ দেখা যায়। প্রিজাইডিং অফিসার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং অফিসার নিয়োগ করার পর সেগুলো ঠিকই তাদের হাতে পৌঁছে যায়। আমার কাছে মনে হতো নদীপথে কিভাবে মানুষের হাতে এগুলো পৌঁছে দেয়া যায়। কিন্তু ঠিকই পৌঁছে যাই দেখি। যেখানে যেমন জীবন।

তখন ছিল সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ওই উপজেলা। মানুষের আকৃতি প্রকৃতি ও বিভিন্ন রকম। অনেকেই দীর্ঘদেহী। শোনা যেত পর্তুগিজ নাবিকদের অনেকেই এখানে বসবাস করে বংশ বিস্তার করেছিলেন। দুর্ধর্ষ প্রকৃতির উনারা। আমি একবার একসঙ্গে ৫-৭ জনের চোখ পুরোপুরি তুলে নেয়া দেখেছিলাম। ওরা ডাকাতি করতে গিয়েছিল এবং জনগণের হাতে ধরা পড়ে চোখ হারায়।একেবারে উপরিয়ে দিয়েছিল। এর বাইরে আশেপাশে বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থীরা ও ছিলেন। রাশেদ খান মেননকে যে গুলি করা হয়েছিল তোপখানা রোডে, গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে নিজ এলাকার চরমপন্থিরাও থাকতে পারেন বলে অনেকে মনে করতেন । যাক সেসব অন্য প্রসঙ্গ।

বরিশালে আমার জেলা প্রশাসক তখন জনাব নুরুল আলম খান। মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিত্ব। এখনো স্যারের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর একজন মেজরের নেতৃত্বে একটি ট্রুপ পাঠানো হয় আমার উপজেলায়। ১৯৮৫ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা মশিউর রহমান স্বপন এবং মরহুম হাফিজুর রহমান মোল্লা সব সময় আমার সঙ্গে থাকতেন। আমি তখনও সংসার ধর্ম করিনি। ইউ এন ও বাংলাতেই আমরা কাটাতাম অনেক সময়। থানার ওসি ছিলেন আব্দুল গাফফার।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি সব কাজ মনিটরিং করে রাতের বেলায় বাসায় গেলাম। খেয়ে দেয়ে দোতলায় নিজের শোবার ঘরে গেলাম বিশ্রাম নেবার জন্য। মনের মধ্যে নানা চিন্তার আনাগোনা। কোথাও কোন কাজে গ্যাপ রয়ে গেল কিনা। টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কে জিজ্ঞেস করলাম আমার কোন খবর আছে কিনা। সেখানে কর্মরত মোস্তফা বললেন না স্যার কোন খবর নেই। মনে মনে ভাবছি যদি কোন ফোন না আসে তাহলে আমি খুশি তাহলে বুঝতে হবে কোন সমস্যা নেই।

রাত পোহালেই ২৭ শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন।একটু শব্দ হলেই আমি চমকে উঠি। ভাবি এই বোধহয় কোথাও কোন ভোটকেন্দ্র থেকে কেউ চলে এসেছেন অভিযোগ জানাতে যে কেন্দ্র দখল হয়ে গেছে। ইত্যাকার কত যে চিন্তা।
নিচের তলায় পিয়ন মনির ঘুমায়। দরজা খোলার কোন শব্দ শুনলাম নাকি! না কোন শব্দ নয় মনের ভুল। এভাবেই রাত কাটলো।

পরদিন যথারীতি নির্বাচন হয়ে গেল। ছোটখাটো কোন ঘটনাও ঘটেনি। বলা যায় এদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম একটি স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। আলহামদুলিল্লাহ। দিনের শেষে রেজাল্ট আসা শুরু হল। রাত ১১:৩০ মিনিটের মধ্যে সব কেন্দ্রের ফলাফল পেয়ে গেলাম । জয়নাল আবেদীন সাহেব নামে এক প্রধান শিক্ষক তার কেন্দ্রে অপেক্ষা করছিলেন রাত হয়ে গেছে কি করবেন। আমি জরুরী সংবাদ দিলাম এখনই অবিলম্বে চলে আসুন।অনেক অসুবিধার মধ্যেও চলে এলেন তিনি।

মশিউর, হাফিজ, সেই মেজর সাহেব এবং ওসিসহ আমরা সারারাত জেগেই ছিলাম। এভাবেই ভোর হয়ে গেল। আমরা সবাই এক ধরনের তৃপ্তি ও আনন্দের মধ্যে পরস্পরের দিকে তাকালাম। নির্ঘুম রাত শেষে সকালবেলাতেই বরিশাল সদরের দিকে রওনা দিলাম।

 

লেখক: সাবেক সচিব।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন